• বিনোদন
  • লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি: ঘরে-বাইরে নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে মিথিলার সময়োপযোগী বার্তা

লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি: ঘরে-বাইরে নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে মিথিলার সময়োপযোগী বার্তা

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি: ঘরে-বাইরে নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে মিথিলার সময়োপযোগী বার্তা

সমাজ ও পরিবারে নারীর প্রকৃত মূল্যায়ন এবং কাজের বিভাজন নিরসনে নিজের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অর্জিত শিক্ষার আলোকে এক আলাপচারিতায় বিশেষ অভিমত ব্যক্ত করলেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা।

গেল বছর শিক্ষাজীবনে ডক্টর (PhD) উপাধি পাওয়ার পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। তবে কেবল অভিনয় নয়, সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর পদচারণা দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি জনপ্রিয় উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর সঞ্চালনায় একটি বিশেষ টক-শোতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নারী-পুরুষের সমতা, শিশুর মেধা বিকাশ এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব ত্রপা মজুমদার।

কাজের বিভাজন ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন

সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীরা যখন উচ্চপদে আসীন হন বা বিশেষ কোনো সাফল্য অর্জন করেন, তখন প্রায়শই সমাজ তাঁদের বাঁকা চোখে দেখে। এই রূঢ় বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে মিথিলা বলেন, "আমাদের সমাজে সবার আগে কাজের বিভাজন বা Division of Labor-এর ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। 'এটা নারীর কাজ' আর 'ওটা পুরুষের কাজ'—এই সেকেলে বিভাজন থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।"

মিথিলার মতে, লিঙ্গসমতার শিক্ষা শুরু হওয়া উচিত পরিবার থেকেই। যদি শৈশব থেকেই শিশুকে শেখানো হয় যে কাজ কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের ওপর নির্ভর করে না, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বৈষম্যমূলক মানসিকতা অনেকাংশেই কমে আসবে।

গৃহস্থালি কাজের অদৃশ্য শ্রম ও 'মিউচুয়াল এম্প্যাথি'

একজন নারী ঘরের ভেতর যে পরিমাণ সময় ও শ্রম দেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেটির কোনো আর্থিক মূল্যায়ন (Economic Value) করা হয় না। মিথিলা বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কর্মজীবী নারীদের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটা দ্বিগুণ। কারণ তাঁদের বাইরের পেশাদারিত্ব সামলানোর পাশাপাশি সমানতালে ঘরের কাজও করতে হয়।

এই ভারসাম্য বা Work-Life Balance বজায় রাখার ক্ষেত্রে তিনি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে 'Mutual Empathy' বা পারস্পরিক সহমর্মিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। মিথিলা মনে করেন, ঘর এবং বাহির—উভয় ক্ষেত্রেই যদি সঙ্গীরা একে অপরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তবে জীবন অনেক সহজ হয়ে ওঠে।

মেধা ও যোগ্যতার অনন্য স্বাক্ষর

মিথিলার এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘ একাডেমিক এবং প্রফেশনাল ক্যারিয়ারের গভীর অভিজ্ঞতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রথম বিভাগ নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট' (Early Childhood Development) বিষয়ে দ্বিতীয়বার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ সিজিপিএ (৪.০০-এর মধ্যে ৪.০০) অর্জন করে তিনি ‘চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল’ লাভ করেন। বর্তমানে বিনোদন জগতের কাজের পাশাপাশি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা 'ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল'-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শিক্ষা ও কর্মজীবনের এই সুবিশাল অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সমসাময়িক সমাজে নারী-পুরুষের সমঅধিকার ও শিশুর সুন্দর শৈশব নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

Tags: gender equality women empowerment rafiath mithila brac international dipti chowdhury