দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে গাজার জনগণ এমনিতেই কঠিন জীবন কাটাচ্ছেন। এর মধ্যে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্রের মতে, মঙ্গলবার পর্যন্ত তীব্র ঠান্ডার কারণে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃতদের মধ্যে একটি এক বছর বয়সী শিশুও রয়েছে, যা ডেইর আল বালাহর আল আকসা শহীদ হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁবুতে মারা যায়। ইউনিসেফের তথ্যমতে, এই শীতকালে হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মোট ছয়জন শিশু মারা গেছে।
ভবনধসে চারজনের মৃত্যু
অন্যদিকে, চলমান যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্বল ভবনগুলো ধসে পড়ায় আরও চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা সিটির রেমাল এলাকায় আল শিফা হাসপাতালের কর্মকর্তা ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, একটি ভবনধসে পড়ে তিনজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন ১৫ বছরের কিশোরী। আরেকটি পৃথক ঘটনায় গাজা সিটিতে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
মানবিক বিপর্যয়ের সতর্কতা
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল সতর্ক করে বলেছেন, এই ঝড় গাজার জনগণের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। যুদ্ধের কারণে অধিকাংশ মানুষ পর্যাপ্ত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের অব্যাহত নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রয়োজনীয় আশ্রয় সামগ্রী, তাঁবু ও অন্যান্য সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে, গাজার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বর্তমানে তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বাস করছেন। শীত ও ঝড়ের মুখে এসব আশ্রয় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইউএনের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ঝড়ে হাজার হাজার তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত বা উড়ে গেছে এবং যুদ্ধ-ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো আরও ভেঙে পড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিকে একটি বড় মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং অবিলম্বে আশ্রয় সামগ্রী ও অন্যান্য সহায়তা প্রবেশের দাবি জানিয়েছে।