ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েতের মতো দেশগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা আতঙ্কিত।
সংকটে দেশের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশের রেমিট্যান্স আহরণের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে ৬টিই মধ্যপ্রাচ্যের। এর মধ্যে সৌদি আরবে ২৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যেখান থেকে মোট রেমিট্যান্সের ১৫ শতাংশ আসে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৩ শতাংশ, ওমান থেকে ৬ শতাংশ এবং কাতার থেকে ৪ শতাংশ রেমিট্যান্স আসে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এসব দেশ থেকে অর্থ আসা কমে গেলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে।
কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করছেন। যুদ্ধের কারণে অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক নেতারা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে এবং শ্রমিকরা নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরতে বাধ্য হবেন। এতে কেবল বেকারত্ব বাড়বে না, বরং জাতীয় উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হবে।
সরকারের পদক্ষেপ ও হটলাইন চালু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ইরানসহ আক্রান্ত দেশগুলোতে হটলাইন চালু করেছে। প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া জানিয়েছেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের পূর্বাভাস অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, গত কয়েক মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছিল, এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাতে বড় ধরনের ভাটা পড়তে পারে। ফেব্রুয়ারি মাসেই দেশে ৩০২ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বিগত বছরের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা স্থায়ী হলে এই প্রবাহ বজায় রাখা কঠিন হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।