মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন সাইপ্রাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে আঘাত যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলে জানিয়েছেন, ইরান থেকে সাইপ্রাসের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই হামলা সরাসরি সাইপ্রাসকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে বলে মনে না করলেও, সেখানে অবস্থানরত কয়েক হাজার ব্রিটিশ সৈন্যের জন্য একে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে লন্ডন। ব্রিটিশ প্রশাসনের মতে, ইরান পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা তাদের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।
২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা শনিবার থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৭টি সেনা ঘাঁটিতে একযোগে হামলা চালিয়েছে ইরান। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলোর সুনির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করেনি তেহরান, তবে এই বিশাল পরিসরের হামলা পেন্টাগনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের মেহরানে বিস্ফোরণ ও প্রাণহানি এদিকে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর মেহরানে একটি ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি সীমান্ত রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে চালানো এই হামলায় অন্তত ৪৩ জন ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, এই হামলার নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাত রয়েছে বলে তারা প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক অস্থিরতা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরে হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সাইপ্রাসে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয় যে, এই সংঘাতের রেশ এখন কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ইউরোপীয় সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।