• রাজনীতি
  • শেখ হাসিনাসহ ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি: ফেনীর ছাত্র হত্যা মামলা

শেখ হাসিনাসহ ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি: ফেনীর ছাত্র হত্যা মামলা

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কলেজ ছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম। তার ভাইয়ের করা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
শেখ হাসিনাসহ ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি: ফেনীর ছাত্র হত্যা মামলা

ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিহত কলেজ শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ মোট ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফেনী জেলা আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান এই আদেশ দেন।

ফেনী প্রতিনিধি

ফেনী জেলা আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে এ আদেশ জারি করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কলেজ ছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম (২৫) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করে আদালত এই পরোয়ানা জারি করেছেন।

ঘটনার পটভূমি

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে ছাত্র-জনতার অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন কলেজ ছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম। সেই সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত মাসুম ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন এবং ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।

মামলা ও অভিযোগপত্র

ঘটনার পর ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নিহত মাসুমের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ফেনী-২ আসনের সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, এই মামলায় এজাহারনামীয় ১২ জন এবং সন্দেহভাজন ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিযুক্ত ২২১ জনের মধ্যে ১৫৬ জন এজাহারনামীয় ও ৬৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিন আসামি ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আদালতের অবস্থান

ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন মামুন জানান, আদালত সাড়ে ৫ মাস পর বুধবার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীকে সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশের বিভিন্ন তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, অভিযোগপত্রে মূলত তারাই অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি।

বাদী ও নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।” বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়াও দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আগামী ২২ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট মহিপালে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় এ পর্যন্ত মোট ২৪টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ৭টি হত্যা এবং ১৭টি হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।

Tags: murder case sheikh hasina awami league arrest warrant student movement mahbubul hasan masum feni court