গোলপোস্টের নিচে অপ্রতিরোধ্য ইয়াসিন বুনু
ফুটবল বিশ্ব তাকে চেনে ‘পেনাল্টি স্পেশালিস্ট’ হিসেবে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালকে বিদায় করে মরক্কোর রূপকথার নায়ক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেই ইয়াসিন বুনু আবারও জ্বলে উঠলেন আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের মহাগুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল জালের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে। আর সেখানেই নিজের অভিজ্ঞতা আর ক্ষিপ্রতার প্রমাণ দিলেন এই অভিজ্ঞ Goalkeeper। নাইজেরিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট রুখে দিয়ে মরক্কোকে পৌঁছে দিলেন বহু কাঙ্ক্ষিত ফাইনালে।
স্নায়ুক্ষয়ী পেনাল্টি শুটআউট ও ইগামানের আবেগ
টাইব্রেকারে টানটান উত্তেজনার মধ্যে মরক্কো ৪-২ ব্যবধানে জয় পায়। তবে ম্যাচের একটি মুহূর্ত দর্শকদের হৃদয়ে দাগ কেটে যায়। মরক্কোর হামজা ইগামানে যখন নিজের পেনাল্টি শটটি মিস করেন, তখন হতাশায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন এই তরুণ ফুটবলার। সতীর্থদের সান্ত্বনাতেও তার চোখেমুখে ফুটে উঠছিল ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার আকুতি। তবে গোলপোস্টের নিচে বুনু যখন নাইজেরিয়ার শটগুলো রুখে দিচ্ছিলেন, তখন ইগামানের সেই বিষাদ রূপ নেয় বাঁধভাঙ্গা উল্লাসে। ঘরের মাঠে গ্যালারিভর্তি দর্শকদের সামনে মরক্কো যেন তাদের ফুটবল ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায় রচনা করল।
দুই দশকের শিরোপা খরা ঘুচানোর হাতছানি
আফ্রিকান ফুটবলে মরক্কো অন্যতম পরাশক্তি হলেও আফকনের শিরোপা তাদের কাছে বরাবরই অধরা থেকে গেছে। ১৯৭৬ সালে একমাত্র শিরোপা জয়ের পর ২০ বছর আগে ২০০৪ সালে তারা ফাইনাল খেলেছিল, যেখানে হারতে হয়েছিল তিউনিসিয়ার কাছে। দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের দৌড়ে ফাইনালে পা রাখল অ্যাটলাস লায়নরা। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভঙ্গ হলো তিনবারের চ্যাম্পিয়ন নাইজেরিয়ার। গত আসরে আইভরি কোস্টের কাছে হেরে রানার্স-আপ হওয়া নাইজেরিয়া এবার সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিল।
ফাইনালে মানের সেনেগালের মুখোমুখি মরক্কো
আগামী ১৮ জানুয়ারি টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনালে মরক্কো মুখোমুখি হবে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল সেনেগালের। প্রথম সেমিফাইনালে সাদিও মানের একমাত্র গোলে মোহামেদ সালাহর মিশরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে সেনেগাল। লিভারপুলের সাবেক সতীর্থ সালাহ ও মানের এই দ্বৈরথ ফুটবল প্রেমীদের বাড়তি উত্তেজনা জুগিয়েছে। সালাহ এখনও প্রিমিয়ার লিগে দাপিয়ে বেড়ালেও সাদিও মানে বর্তমানে আল নাসরের জার্সিতে নিজের জাত চেনাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, বুনুর বিশ্বস্ত হাত নাকি মানের গতি—কার হাসি শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয় আফকনের শিরোপা মঞ্চে।