• জাতীয়
  • ময়লার ভাগাড়ে নরকযন্ত্রণা

ময়লার ভাগাড়ে নরকযন্ত্রণা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
ময়লার ভাগাড়ে নরকযন্ত্রণা

নগরী থেকে সরানো হচ্ছে না ময়লার ভাগাড়। ফলে খুব সহজেই মুক্তি মিলছে না দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণের হাত থেকে। দুর্গন্ধ আর দুর্ভোগে নগরীর পুরানপাড়া, সাপানিয়া, উলালঘুনীসহ অন্তত ১০টি এলাকার বাসিন্দা। সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

২০০৩ সালে নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ড পুরানপাড়া এলাকায় ময়লা ফেলার জন্য প্রায় ৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। চারপাশের আবাসিক এলাকা সেই থেকে শুরু করে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় সেখানে। কখনো সেখানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে আবর্জনা রূপ নিয়েছে পাহাড়ে।

ফলে নগরীর ১, ২, ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাসহ সদর উপজেলার সাপানিয়া, রাঢ়ীমহল এলাকার বাসিন্দারা ভোগান্তিতে রয়েছেন। আবর্জনার স্তূপের কাছেই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি কলেজসহ অন্তত ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১০-১২টি মসজিদ। ভাগাড়ের ৪০ গজ দূরেই রয়েছে কাউনিয়া হাউজিং প্রকল্প। সেখানে অন্তত ৫০০ পরিবারের বাস।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ময়লার ভাগাড় নির্মাণে যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল সেই শর্ত তারা মানেনি নগরীর পুরানপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও বিডিক্লিনের প্রধান সমন্বয়ক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, মানুষ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পুরানপাড়া, মতাসার ও সাপানিয়া এলাকা। কুয়াশার কারণে আবর্জনায় দেওয়া আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়া ওপরে উঠতে পারে না। ধোঁয়া ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। এখানে নিশ্বাস নেওয়ায় দায়। তিনি জানান, ২০১৭-১৮ সালের দিকে নগরীর পরিধি বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

নগরীর উত্তরাংশের ৭৪-৭৫টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ম্যাপ অঙ্কনের দায়িত্ব একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ময়লার ভাগাড় সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের চরে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এ ধরনের একটি প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়। সেটা কেন বাস্তবায়ন হয়নি জানি না। ময়লার ভাগাড়টি সরানো না হলেও অন্তত পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছ থেকে যে শর্ত মেনে করা হয়েছিল সেসব শর্ত মানা হলেও অন্তত ভোগান্তি কমত। বরিশাল সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হুমায়ন কবির বলেন, চরবাড়িয়ায় ময়লার ভাগাড় নির্মাণ প্রকল্প মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়নি। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন করে প্রকল্প তৈরি করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ময়লার ভাগাড় নির্মাণে যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল সেই শর্ত তারা মানেনি। তাই নগরীর ময়লার ভাগাড়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। সিটি করপোরেশনেরও বিকল্প কোনো উপায় নেই। তারা আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছে।

Tags: ময়লার ভাগাড় নরকযন্ত্রণা