‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’ স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র তৃণমূল কংগ্রেসের এই ৫৫ মিনিটের তথ্যমূলক চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন দলের বিধায়ক ও জনপ্রিয় পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। ছবিতে 'লক্ষ্মী'র কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি সরকারি প্রকল্পের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার প্রতীকী ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া সরকারের এজেন্ট হিসেবে অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আতঙ্কের ছায়া’ বা ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়। সোহিনী সেনগুপ্তও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে চমক দেখিয়েছেন। ছবিটি একটি দুস্থ পরিবারের দুর্দশা, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে কীভাবে তাদের জীবন পাল্টে যায়, তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।
উন্নয়নের ‘ডকুমেন্টেশন’ ও গ্রামে প্রচার ছবিটি দেখে অভিভূত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকার জনসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে ৯৫ থেকে ৯৭টি প্রকল্প তৈরি করলেও, সেগুলোর কোনো সুনির্দিষ্ট ডকুমেন্টেশন এতদিন ছিল না। এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সেই কাজটিই হলো বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, 'উন্নয়নের পাঁচালি' হিসেবে এই ছবিটি গ্রামে গ্রামে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দেখানো হবে। অভিষেক নিজে ছবির স্ক্রিপ্ট দেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ ও স্লোগান সিনেমা শেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বাংলার বহু মানুষই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রকল্প সম্পর্কে অবগত নন, যা তিনি তাঁর 'নবজোয়ার যাত্রা'য় গিয়ে উপলব্ধি করেছেন। তাই এই উদ্যোগ। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, গত ৫ বছরে বাংলা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো সহযোগিতা পায়নি, উল্টো 'ভাতে মারার চেষ্টা করা হয়েছে'। এর তীব্র সমালোচনা করে তিনি স্লোগান তোলেন, ‘যে আমার পাতে ভাত দেয়, সে আমার মাথায় ছাদের ব্যবস্থা করবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেটা করে দেখিয়েছে। এখানে কোনো রাজনীতি নেই।’
অন্যান্য উপস্থিতি ও অভিষেকের ব্যক্তিগত মন্তব্য প্রিমিয়ারে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিসহ দলের সাংসদ, মন্ত্রী ও বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। অভিষেক সমাজের বিশিষ্ট দর্শক ও দলীয় কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজ্য সরকার যে উন্নয়নের ছোঁয়া মানুষের জীবনে এনে দিয়েছে, সেই বার্তা যেন সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে তিনি হাসিমুখে জানান, সিনেমা দেখতে ভালোবাসলেও তিনি নিজে কখনোই অভিনয় করবেন না।