• জাতীয়
  • হাদি হত্যা মামলা: অধিকতর তদন্তের নির্দেশ সিআইডিকে, প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারির মধ্যে

হাদি হত্যা মামলা: অধিকতর তদন্তের নির্দেশ সিআইডিকে, প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারির মধ্যে

ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে মামলার বাদী নারাজি (অনাস্থা) আবেদন করায় আদালত এই হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের ভার সিআইডিকে দিয়েছেন। আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
হাদি হত্যা মামলা: অধিকতর তদন্তের নির্দেশ সিআইডিকে, প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারির মধ্যে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) এই নির্দেশ দেন এবং আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করেন। এর আগে ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করেছিলেন মামলার বাদী।

চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন ও আইনজীবীর বক্তব্য

বৃহস্পতিবার সকালে মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি (অনাস্থা) দাখিল করেন। শুনানি শেষে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন এবং বিকেলে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

নারাজির আবেদনের শুনানিতে আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে শুধুমাত্র ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে মূল হত্যার পরিকল্পনাকারী ও শুটারদের মধ্যেকার সম্পর্ক স্পষ্ট নয়। আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, “এই চার্জশিট তদন্ত কর্মকর্তা কেবল জমা দেওয়ার জন্যই দিয়েছেন। এখানে মূল হত্যার পরিকল্পনাকারীদের সাথে হত্যাকারী শুটারদের কী সম্পর্ক তা উল্লেখ করা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “হাদি কোনো সাধারণ মানুষ ছিলেন না। তাকে হত্যার জন্য অবশ্যই বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল। এজন্য তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা হয়েছে।”

চার্জশিটে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলের কথা বলা প্রসঙ্গে আইনজীবী বলেন, “এটা হাস্যকর, একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ সাহস করার কথা না। অবশ্যই বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল।” এছাড়া, চার্জশিটে শুধু ফয়সালকে দেখানো হয়েছে এবং প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার পর হত্যাকারীরা কীভাবে নিরাপদে পালিয়ে গেল বা পরিকল্পনাকারীরা কীভাবে তাদের সাহায্য করল, সে বিষয়েও কিছু বলা হয়নি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই নারাজি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আগের চার্জশিট ও আসামিদের তালিকা

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। গত ১২ জানুয়ারি মামলার বাদী চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য সময় চাইলে আদালত শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

চার্জশিটে মোট ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন পলাতক এবং বাকি ১১ জন বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন। তদন্ত কর্মকর্তা পলাতক ৬ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছেন।

পলাতক আসামিরা:

  • ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ (প্রধান আসামি)
  • ফয়সালের সহযোগী আলমগীর হোসেন
  • ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি
  • ফিলিপ স্নাল ফিলিপস
  • মুক্তি আক্তার
  • ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার

কারাগারে আটক আসামিরা:

  • ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির
  • মা মোসা. হাসি বেগম
  • স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া
  • বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা
  • শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু
  • রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল
  • ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবির
  • সিবিয়ন দিউ
  • সঞ্জয় চিসিম
  • মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু
  • নরসিংদীতে অস্ত্রসহ আটক মো. ফয়সাল।
Tags: detective branch cid investigation inkilab mancha নারাজি hadi murder case shariful osman bin hadi