যুক্তরাষ্ট্রের দুই সংস্থার আগমন যুক্তরাষ্ট্রের এই দুই সংস্থা—আইআরআই (IRI) এবং এনডিআই (NDI)—ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। তাদের প্রধান কাজ হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। সংস্থা দুটি এর আগেও বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কাজ করেছে এবং স্বাধীনভাবে তাদের মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে।
পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ এর আগে ২০২৫ সালের ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর আইআরআই এবং এনডিআই যৌথভাবে একটি প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনে অংশ নিয়েছিল। সেই মিশনে নির্বাচন কমিশনের কিছু অগ্রগতিকে তারা ইতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা, ২১ লাখ মৃত ভোটার অপসারণ এবং ৪৪ লাখ নতুন ভোটার সংযুক্তি। একই সঙ্গে জুলাই মাসে জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর এবং আন্তঃদলীয় সংলাপের উদ্যোগকেও তারা স্বাগত জানিয়েছিল।
উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জসমূহ তবে পূর্ববর্তী মিশনে রাজনৈতিক সহিংসতা, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তারা উল্লেখ করে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে বিএনপির অবস্থান নিয়ে এখনো মতভেদ রয়ে গেছে, যা প্রাক-নির্বাচনী পরিবেশকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে আইআরআই-এর পরামর্শ আইআরআই পরবর্তীতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ভুয়া তথ্য (misinformation) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রতিরোধ এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করে। তাদের মতে, পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রস্তুতি একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, আইআরআই ইতোমধ্যে অন্তত ১০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রস্তুতি নিশ্চিত করেছে। নির্বাচন শেষে সংস্থা দুটি একটি সুপারিশনামা প্রকাশ করবে, যেখানে ভোটে কোনো অনিয়ম বা সহিংসতার বিষয় থাকলে সেটিও উঠে আসবে। এই পর্যবেক্ষণ দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।