চায়ের যত পদ ও দাম মিরপুর ২-এর লাভ রোডে অবস্থিত রাজা চায়ের দোকানে ১৩ থেকে ১৪ পদের বাহারি চায়ের দেখা মেলে। এর মধ্যে স্পেশাল রাজা চা, রাজা লাভ চা, রাজা কাশ্মীরি গোলাপি চা, ইরানি জাফরান লাল চা, রাজা স্পেশাল মালাই চা এবং তুর্কি লাল চা উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি চায়ের দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১০০ টাকা পর্যন্ত। স্পেশাল রাজা চা তৈরি হয় কাজুবাদাম, হরলিকস, ম্যাট কফি, ব্ল্যাক কফি, কিশমিশ, গুঁড়া দুধ ও কনডেন্সড মিল্কের এক বিশেষ মিশ্রণে। চা ছাড়াও এখানে রাজা কুলফি রসমালাই, জাফরান ও কাশ্মীরি লাচ্ছি, এবং মালয়েশিয়ান চকলেট লাচ্ছি পাওয়া যায়।
শুরুর দিকের সংগ্রাম ও বিদেশ থেকে অভিজ্ঞতা লাভ ময়মনসিংহের ত্রিশালের নওধার গ্রামে জন্ম নেওয়া আজহার উদ্দিনের শৈশব কেটেছে চরম অভাব-অনটনে। একসময় জীবন বাঁচাতে মানুষের বাড়িতে কাজ করেছেন, পান–সিগারেট ফেরি করেছেন। ভালো জীবনের সন্ধানে তিনি পাড়ি জমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে। সেখানে বিভিন্ন দেশের নামী শেফদের কাছে চা বানানোর নানা কৌশল রপ্ত করেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে মাত্র তিন হাজার টাকা নিয়ে ২০২০ সালে তিনি মিরপুরে তাঁর স্বপ্নের যাত্রা শুরু করেন।
পরিবেশনায় রাজকীয় আভিজাত্য আজহার উদ্দিনের এই চায়ের দোকানে রয়েছে এক ভিন্ন স্বকীয়তা। মোগল পোশাক আর চমৎকার পাকানো গোঁফের জন্য অনেকেই তাঁকে রাজা মামা বলে ডাকেন। তাঁর দোকানে চা পরিবেশনের ধরনও বেশ রাজকীয়। পিতলের ট্রেতে মাটির কাপে চা পরিবেশন করা হয়—যা মোগল আমলের কোনো রাজকীয় আয়োজনের কথা মনে করিয়ে দেয়। দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে চা পরিবেশন।
একটি ভ্যানগাড়ি থেকে চেইন শপ মাত্র চার বছরে একটি ভ্যানগাড়িতে শুরু হওয়া এই ব্যবসা এখন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ২৮টি শাখায় ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দোকানে প্রায় ১০০ কর্মচারী কাজ করছেন। প্রতিটি আউটলেটেই অ্যারাবিয়ান ডিজাইনের কেটলি ও ভেষজ মসলার ঘ্রাণে চারপাশ ম-ম করে। বর্তমানে আজহার উদ্দিন কেবল একজন সফল ব্যবসায়ী নন, একজন পরিচিত ব্যক্তিত্বও বটে। তাঁর ভাষ্যমতে, “চা বিক্রি করে শুধু টাকা নয়, যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা অমূল্য। একসময় যেখানে থাকার জায়গা ছিল না, চায়ের অসিলায় আজ সেখানে শত মানুষের কর্মসংস্থান করতে পেরেছি। এটাই আমার জীবনের বড় সার্থকতা।”