• রাজনীতি
  • যে কারণে একক নির্বাচনের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের

যে কারণে একক নির্বাচনের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
যে কারণে একক নির্বাচনের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের

একক নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে যাচ্ছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আইএবি।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ আসনে প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে থাকবে। তারা সবাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং একজনও মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ইসলামপন্থি শক্তির সামনে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পীর সাহেব চরমোনাই ইসলামপন্থি দলগুলোর জন্য একটি ভোট একটি বাক্স বা ওয়ান বক্স নীতির ঘোষণা দেন। এই ডাকে শুরুতে অনেকেই সাড়া দিলেও শেষ পর্যায়ে এসে কেউ কেউ রাজনৈতিক স্বার্থ ও ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যকে মুখ্য করে ওয়ান বক্স নীতিকে ভিন্ন ধারায় নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ব্যথিত ও মর্মাহত।

তিনি বলেন আমরা ইবাদতের রাজনীতি করি। নেতাকর্মী ও ইসলামপন্থি জনতার আবেগের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য ছিল ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পুনর্গঠন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এজন্য আমরা ইসলামের পক্ষে থাকা একটি বাক্সকে হেফাজত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে গতকাল যে সংবাদ সম্মেলনে আসন বণ্টন হয়েছে সেখানে ইসলামী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের আদর্শিক অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায়নি। এই অবস্থায় জোটের সঙ্গে থাকা সম্ভব নয়।

জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান প্রসঙ্গে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা শফিকুর রহমান প্রকাশ্যে বলেছেন তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। এমনকি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করবেন না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এই বক্তব্য জানার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্পষ্ট হয়ে যায় যে তাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে না। তিনি বলেন ইসলামী আন্দোলনের কর্মী সমর্থকেরা ইসলামের পক্ষে কাজ করছেন। যদি প্রধান ইসলামপন্থি শক্তিই ইসলামী আইনের প্রতি আস্থা না রাখে তাহলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই আদর্শিক বিচ্যুতির পথে আমরা যেতে পারি না।

রাজনৈতিক কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন জাতীয় সরকার গঠন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে জোটের ভেতরে স্বচ্ছতা ছিল না। এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণা আসায় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো পাতানো বা ভাগাভাগির নির্বাচনের অংশ হতে চায় না।

তিনি আরও বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ আসনে প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনে যাচ্ছে। বাকি ৩২ আসনে আদর্শ ও লক্ষ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হবে। লক্ষ্য হলো ৩০০ আসনেই ইসলামের পক্ষে ওয়ান বক্স নীতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে থাকবে কি না তা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের জরুরি বৈঠক হলেও তাতে অংশ নেয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সেই গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে দলটি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল।

Tags: নির্বাচন ঘোষণা ইসলামী আন্দোলন