বাংলাদেশের সিনেমা ও সংগীত অঙ্গনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আনলেন ফিল্ম কম্পোজার অনিরুদ্ধ হৃদয়। তার সৃষ্টি, সংলাপবিহীন মনস্তাত্ত্বিক এক্সপেরিমেন্টাল শর্ট ফিল্ম ‘দ্য হেইজ’ (The Haze) গ্রিসের মর্যাদাপূর্ণ 'এথেন্স ইন্টারন্যাশনাল মান্থলি আর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৫'-এ 'অনারেবল মেনশন অ্যাওয়ার্ড' জিতে নিয়েছে।
‘দ্য হেইজ’ কেন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
১৬ মিনিটের এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি একটি মনস্তাত্ত্বিক এক্সপেরিমেন্টাল ফিল্ম। এর বিশেষত্ব হলো এটি সম্পূর্ণ সংলাপবিহীন। অর্থাৎ, এর গল্প বলার প্রধান মাধ্যম হলো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং সাউন্ডট্র্যাক। অনিরুদ্ধ হৃদয় তার সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে চরিত্রের মানসিক ভাঙন, আবেগ, উত্তেজনা এবং সময়ের প্রবাহকে শুধুমাত্র সাউন্ডের মাধ্যমেই দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এখানে মিউজিক কেবল ভিজ্যুয়ালের আনুষঙ্গিক উপাদান না হয়ে, একটি স্বাধীন ভাষা হিসেবে কাজ করেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি
গ্রিসের সম্মাননার আগে থেকেই ‘দ্য হেইজ’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ছাপ ফেলতে শুরু করেছে। এটি এরই মধ্যে ভারতের ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক স্টার ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড এবং আমাদের আন্তর্জাতিক শর্টফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৫, কলকাতায় অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়েছে। ফিল্মটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা থিয়েটার প্রযোজিত এবং কাব্যিক স্কুল অব আর্টসের সহযোগিতায় নির্মিত।
ছবিটির নেপথ্যে যারা
‘দ্য হেইজ’ নির্মাণ ও সম্পাদনা করেছেন নাসির খন্দকার। এতে অভিনয় করেছেন গোলাম ফারুক জয়, ঊর্মি চক্রবর্তী, তারেক রেজা ও চান মিয়াসহ আরও অনেকে। ছবিটির সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন নাবিল মোস্তফা।
অনিরুদ্ধ হৃদয়ের ভাবনা
এই স্বীকৃতিকে অনিরুদ্ধ হৃদয় তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। ২০০৬ সাল থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকা এই শিল্পী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে পড়াশোনার সময় থিয়েটারের জন্য ব্যাপক মিউজিক কম্পোজ ও সাউন্ড ডিজাইন করেছেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি ফিল্ম, শর্ট ফিল্ম, ডকুমেন্টারি ও ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় নিয়মিত কাজ করছেন। ভবিষ্যতে তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি ফিল্ম কম্পোজারদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চান।