• দেশজুড়ে
  • ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট: দায়িত্ব পালনে অনীহা বা শৈথিল্য দেখালেই কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি, পরিপত্র জারি

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট: দায়িত্ব পালনে অনীহা বা শৈথিল্য দেখালেই কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি, পরিপত্র জারি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট: দায়িত্ব পালনে অনীহা বা শৈথিল্য দেখালেই কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি, পরিপত্র জারি

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে সরকার; নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে আইন মেনে চলার কড়া নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্তা।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের প্রশাসনিক শিথিলতা বরদাশত করবে না সরকার। এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মযজ্ঞকে প্রশ্নাতীত, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনীহা, অসহযোগিতা কিংবা শৈথিল্য প্রদর্শন করলে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেশের সকল মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তাদের আওতাধীন সকল অধিদপ্তর, দপ্তর এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে।

আইনের কঠোর প্রয়োগ ও ‘নির্বাচন কর্মকর্তা’র দায়বদ্ধতা

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার বিশাল কর্মযজ্ঞ সামাল দিতে ইতোমধ্যে ৬৯ জন Returning Officer এবং ৪৯৯ জন Assistant Returning Officer নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে ভোটগ্রহণের মূল দায়িত্ব পালন করবেন বিপুল সংখ্যক শিক্ষক এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগপত্র পাওয়ার পর বা নির্বাচনের কাজে সরাসরি নিয়োজিত হওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ‘নির্বাচন কর্মকর্তা’ হিসেবে গণ্য হবেন। এই সময়কাল থেকে তারা সরাসরি Election Commission-এর অধীনে ন্যস্ত থাকবেন এবং তাদের যেকোনো কাজের জন্য কমিশনের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন।

‘অসদাচরণ’ ও শাস্তির বিধান

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সামান্যতম বিচ্যুতিকেও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পরিপত্র অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনে অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য প্রদর্শন কিংবা ভুল তথ্য প্রদানকে সরাসরি ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ১৯৯১ সালের বিশেষ বিধান আইনের ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর Disciplinary Action বা শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এটি চাকরিকালীন রেকর্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

শিক্ষাখাতে বিশেষ নজরদারি ও শিক্ষকদের ভূমিকা

বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই বিশাল জনবলকে সঠিক নির্দেশনার আওতায় আনতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে।

মাউশির সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) মো. খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত কঠোর নির্দেশনাটি ইতোমধ্যে দেশের সকল আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC), মাউশি, নায়েম (NAEM), ব্যানবেইস, এনটিআরসিএ (NTRCA) এবং এনসিটিবি (NCTB)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোকে এই বিষয়ে তীক্ষ্ণ নজর রাখার এবং দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় দায়িত্ব পালনে সততা ও নিরপেক্ষতার আহ্বান

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণভাবে গ্রহণযোগ্য করতে স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সততা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। নির্বাচনী কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের বাহ্যিক প্রভাবমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালনই হবে এই মুহূর্তের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এটি একটি National Duty এবং এই দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি কোনোভাবেই সাধারণ প্রশাসনিক বিচ্যুতি হিসেবে দেখা হবে না; বরং তা আইনি প্রক্রিয়ায় কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

Tags: bangladesh election national election election commission returning officer ministry of education cabinet division election law disciplinary action election duty 12 february