বগুড়ার ধুনট উপজেলায় নির্বাচনী হাওয়া তপ্ত হয়ে ওঠার মধ্যেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার এলাঙ্গী বাজার এলাকায় বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতের অন্তত ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একই জোটের শরিকদের মধ্যে এমন বৈরি পরিস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচার ঘিরে হঠাৎ উত্তেজনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এলাঙ্গী বাজার এলাকায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার ও স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বদানুবাদ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে পুরো বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা
এই সংঘর্ষে আহত ৭ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন— এলাঙ্গী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আইয়ুব আলী (৫০), মাসুদ রানা (৪৯), জিয়াউর রহমান (৪৫), জিয়াউর রহমান ঠান্ডু (৪৩), আবু বক্কার (৪৮), সামিউল ইসলাম (৩০) ও রবিউল ইসলাম (৪৩)। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সামিউল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (Medical College) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি ইউনিটে (Emergency Unit) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পিত হামলা না কি সামান্য বদানুবাদ?
ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া-৫ আসনের এমপি প্রার্থী (MP Candidate) আলহাজ্ব দবিবর রহমান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।" তিনি দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন এলাঙ্গী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আইয়ুব আলী। তার দাবি, নির্বাচনী প্রচার বা ইলেকশন ক্যাম্পেইন (Election Campaign) চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে কেবল সামান্য কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। কোনো পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকার দাবি করে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান পলাশ জানান, এটি একটি তাৎক্ষণিক উত্তেজনা ছিল মাত্র।
পুলিশের অবস্থান ও তদন্ত
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ধুনট থানা পুলিশ। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) আতিকুল ইসলাম জানান, "নির্বাচনী প্রচার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, স্থানীয় পর্যায়ে দলগুলোর মধ্যে স্নায়ুচাপ তত বাড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে এই ধরনের সংঘাত ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।