• দেশজুড়ে
  • ‘মাংস কেন খেলো?’—প্রতিবেশীর পিটুনিতে পোষা বিড়ালের মৃত্যু, মণিরামপুরে বিচার চাইলেন মালিক

‘মাংস কেন খেলো?’—প্রতিবেশীর পিটুনিতে পোষা বিড়ালের মৃত্যু, মণিরামপুরে বিচার চাইলেন মালিক

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
‘মাংস কেন খেলো?’—প্রতিবেশীর পিটুনিতে পোষা বিড়ালের মৃত্যু, মণিরামপুরে বিচার চাইলেন মালিক

ঘরে আটকে রেখে অবুঝ প্রাণীর ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগ; একটির মৃত্যু ও অন্যটি গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী পরিবার।

যশোরের মণিরামপুরে প্রতিবেশীর লালসার শিকার হয়েছে দুটি অবুঝ পোষা বিড়াল। ঘরে আটকে রেখে নির্মমভাবে পেটানোর ফলে একটি বিড়ালের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্যটি গুরুতর আহত অবস্থায় যন্ত্রণায় ছটফট করছে। নিষ্ঠুর এই ‘Animal Cruelty’ বা প্রাণিহিংসার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে মণিরামপুর থানা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বিড়ালের মালিক।

পৈশাচিক নির্যাতনের বর্ণনা

ঘটনাটি ঘটেছে মণিরামপুর উপজেলার চালকিডাঙ্গা বাজার এলাকায়। ভুক্তভোগী জিল্লুর রহমান পেশায় একজন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী। শখ করে নিজের বাড়িতে দুটি বিড়াল লালন-পালন করতেন তিনি। জিল্লুর রহমানের অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার দুপুরে বিড়াল দুটি ভুলবশত পাশের বাড়ির বাসিন্দা হুসাইন কবির হিরার ঘরে ঢুকে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, হিরা বিড়াল দুটিকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পেটাতে শুরু করেন।

দীর্ঘক্ষণ নির্যাতনের পর ঘরের দরজা খুলে দিলে একটি বিড়াল কোনোমতে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে জিল্লুরের বাড়িতে ফিরে আসে। তবে অন্যটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর দ্বিতীয় বিড়ালটিকে রক্তাক্ত এবং সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

গুরুতর ইনজুরি ও বিড়ালের মৃত্যু

নির্যাতনের মাত্রা কতটা ভয়াবহ ছিল, তার প্রমাণ মেলে বিড়ালটির শারীরিক অবস্থায়। মালিকের দাবি, প্রহারের চোটে বিড়ালটির কয়েকটি দাঁত ভেঙে গেছে এবং একটি চোখ মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। শনিবার সকালে বিড়াল দুটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে (Upazila Livestock Office) নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটির মৃত্যু হয়। অন্যটি এখনো গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছে। ছুটির দিন হওয়ায় যথাযথ চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়াকেও এই মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন মালিক।

অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ও দাবি

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত হুসাইন কবির হিরা বিড়ালটিকে আঘাত করার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, জিল্লুরের বিড়ালগুলো প্রায়ই তাঁর বাড়িতে ঢুকে উৎপাত করত। ঘটনার দিন একটি বিড়াল রান্না করা মাংস খেয়ে ফেলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সেটিকে আঘাত করেন। তবে অন্য বিড়ালটিকে মারধরের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন। যদিও মাংস খাওয়ার মতো তুচ্ছ কারণে প্রাণি হত্যার এই যুক্তিকে স্থানীয়রা অমানবিক বলে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া

পোষ্য বিড়াল হত্যার বিচার চেয়ে জিল্লুর রহমান মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ বা ডায়েরি করেছেন।

মণিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ খান জানিয়েছেন, “বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং ‘Investigation’ বা তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বর্তমান সমাজে প্রাণীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে এই ঘটনাটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাণি অধিকার কর্মীরা আশা করছেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন বর্বরতা করার সাহস না পায়।

Tags: local news crime news jashore news animal cruelty animal welfare cat killing monirampur police pet abuse investigation status wildlife protection