• ব্যবসায়
  • চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বড় পদক্ষেপ: ২ লাখ টন আমদানির অনুমতি পেল ২৩২ প্রতিষ্ঠান

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বড় পদক্ষেপ: ২ লাখ টন আমদানির অনুমতি পেল ২৩২ প্রতিষ্ঠান

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বড় পদক্ষেপ: ২ লাখ টন আমদানির অনুমতি পেল ২৩২ প্রতিষ্ঠান

সরু চালের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর শর্তে আমদানির সবুজ সংকেত; ১০ মার্চের মধ্যে বাজারজাত করার কড়া নির্দেশ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের।

দেশের বাজারে চালের উর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় ধরনের আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দিতে ২৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বাজার স্থিতিশীলতায় বিশেষ কৌশল

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি দেশের বাজারে বিশেষ করে ‘সরু চালের’ (Fine Rice) দাম বাড়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে মাঝারি ও মোটা চালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সরু চালের এই দাম বৃদ্ধি ভবিষ্যতে অন্য চালের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং Market Volatility বা বাজারের অস্থিরতা রোধ করতেই সরকার দ্রুত আমদানির এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কঠোর শর্তে আমদানির অনুমতি

২৩২টি মনোনীত প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল (Parboiled Rice) আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে:

১. গুণগত মান নিশ্চিতকরণ: আমদানিকৃত চালে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের বেশি ‘ভাঙা দানা’ (Broken Grain) থাকতে পারবে না। ২. সময়সীমা নির্ধারণ: বরাদ্দ পাওয়া আমদানিকারকদের আগামী ১০ মার্চের মধ্যে আমদানিকৃত সমস্ত চাল বাংলাদেশে এনে বাজারজাত (Commercialization) সম্পন্ন করতে হবে। ৩. পুনঃপ্যাকেটজাতকরণ নিষিদ্ধ: আমদানিকৃত চাল অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে নতুন করে প্যাকেটজাত করা যাবে না। অর্থাৎ, যে বস্তায় চাল আমদানি করা হবে, সেই মূল বস্তাতেই তা বাজারে বিক্রি করতে হবে। ৪. কঠোর মনিটরিং: আমদানিকৃত চালের পরিমাণ, মজুত (Stock Management) এবং বাজারজাতকরণের যাবতীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নিয়মিত অবহিত করতে হবে।

সাপ্লাই চেইন ও বাজার পরিস্থিতি

খাদ্য অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরু চালের বাজার দর বাড়ার ফলে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ এবং Supply Chain সচল রাখতে বেসরকারি খাতকে সক্রিয় করার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে বাজারে চালের যোগান বাড়বে এবং প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১০ মার্চের এই ডেডলাইন বা সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে রমজানের আগে বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। এছাড়া বরাদ্দের অতিরিক্ত আইপি (Import Permit) ইস্যু না করার বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আমদানির প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

তথ্যসূত্র ও বাস্তবায়ন

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত এই তালিকা ও সুপারিশ অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আমদানিকারকরা দ্রুত এলসি (Letter of Credit) খুলে চাল আনার প্রক্রিয়া শুরু করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চালের দাম ফিরে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সরকারের।

Tags: commerce ministry market stability food security food ministry bangladesh trade rice price rice import price control consumer rights import quota