দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (Forex Reserve) শক্তিশালী করার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বাজার থেকে আরও ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (২ মার্চ) বিশেষ নিলামের (Auction) মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে এই ডলার কেনা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং রিজার্ভের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী রাখার একটি কৌশলগত অংশ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
নিলাম ও ডলারের ‘কাটঅফ’ মূল্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এদিন দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংক (Commercial Banks) থেকে মোট ২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। এবারের নিলামে প্রতি ডলারের ‘কাটঅফ’ মূল্য (Cut-off Price) নির্ধারিত হয়েছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে এখন পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে। সেই উদ্বৃত্ত ডলার থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট মূল্যে ডলার কিনে নিজের ভল্ট সমৃদ্ধ করছে।
চলতি অর্থবছরের বিশাল মাইলফলক
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রিজার্ভ পুনর্গঠনে রেকর্ড পরিমাণ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবারের ২৫ মিলিয়ন ডলারসহ এই অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট ৫৪৯ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার বা ৫.৪৯ বিলিয়ন ডলার বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ডলার ক্রয়ের মূল লক্ষ্য হলো সংকটের সময় আমদানির ব্যয় মেটানো এবং টাকার মান ধরে রাখা।
৪০ বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন ও গভর্নরের রূপরেখা
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এক বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন (৪ হাজার কোটি) ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করবে। বর্তমানের এই ডলার কেনার প্রবণতা সেই লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যেমন আইএমএফ (IMF) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণের কিস্তি আসছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বাজার থেকে নিয়মিত ডলার কিনছে। এই দ্বিমুখী প্রক্রিয়ায় রিজার্ভের স্বাস্থ্য দ্রুত পুনরুদ্ধার হচ্ছে। তবে মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) নিয়ন্ত্রণে রেখে ডলারের বিনিময় হার (Exchange Rate) স্থিতিশীল রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ডিজিটাল ইকোনমি ও ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ডলারের সরবরাহ এবং চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আগামীতেও এই ধরনের নিলাম প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে কোনো কৃত্রিম সংকট বা অস্থিরতা তৈরির সুযোগ থাকবে না।