• রাজনীতি
  • ‘আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি অপসারিত না হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে সংসদ’: বিএনপি এমপিদের প্রতি বিশেষ আহ্বান আসিফ মাহমুদের

‘আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি অপসারিত না হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে সংসদ’: বিএনপি এমপিদের প্রতি বিশেষ আহ্বান আসিফ মাহমুদের

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি অপসারিত না হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে সংসদ’: বিএনপি এমপিদের প্রতি বিশেষ আহ্বান আসিফ মাহমুদের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধা ও আদালতকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অভিযোগ এনসিপি মুখপাত্রের; সংবিধান সংস্কারের শপথে অনড় থাকার ঘোষণা।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি যদি বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে অপসারিত না হন, তবে পুরো সংসদীয় প্রক্রিয়াই জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একইসঙ্গে তিনি নবনির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন অতি দ্রুত ‘সংবিধান সংস্কারের’ শপথ গ্রহণ করে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হন।

সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর রূপায়ণ টাওয়ারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে (Press Conference) আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি’র পক্ষ থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নবগঠিত সংস্কার বাস্তবায়ন বিষয়ক কমিটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়।

রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও সংসদের নৈতিকতা

আসিফ মাহমুদ বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী সরকারের নিয়োগ দেওয়া রাষ্ট্রপতি এখনো পদে আসীন থাকা বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অন্তরায়। যদি এই রাষ্ট্রপতিকে বহাল রেখেই সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়, তবে সেই সংসদের গ্রহণযোগ্যতা এবং বৈধতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠবে। আমরা চাই একটি স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ সংসদীয় ব্যবস্থা, যেখানে পুরনো অগণতান্ত্রিক উত্তরাধিকারের কোনো স্থান নেই।”

তিনি নবনির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্যদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট (Mandate) নিয়ে যারা সংসদে আসছেন, তাদের উচিত সংবিধান সংস্কারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার বা শপথ নেওয়া।

জুলাই সনদ ও রিট জটিলতা

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, বিএনপি সরকার ‘জুলাই সনদ’ রিটের স্থগিতাদেশ (Stay Order) চেয়ে কার্যত জনগণ এবং আদালতকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। এনসিপি’র মতে, এই সনদ বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব।

এ প্রসঙ্গে এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি মেনেই দেশে নির্বাচন এবং গণভোট (Referendum) অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তাদের রায় জানিয়ে দিয়েছে। এখন যদি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া হয়, তবে তা হবে গণরায়ের অবমাননা।”

আদালত ও জনগণের মুখোমুখি অবস্থান

এনসিপি নেতৃবৃন্দ মনে করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ রুদ্ধ করতে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা কাম্য নয়। সারোয়ার তুষার আরও বলেন, “আদালত এবং জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা ভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জুলাই সনদ অনুযায়ী যদি কেউ কাজ করতে না চায়, তবে তার নৈতিকতা ও দেশপ্রেম প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে নবগঠিত ‘সংস্কার বাস্তবায়ন বিষয়ক কমিটি’র সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এই কমিটি দেশজুড়ে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় জনমত গঠনের কাজ করবে বলে জানানো হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এনসিপি’র এই কঠোর অবস্থান সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন এক চাপের সৃষ্টি করতে পারে, যা সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রপতির পদের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

Tags: asif mahmud july charter political crisis supreme court referendum constitutional reform bnp news ncp news bangladesh parliament president removal