• দেশজুড়ে
  • বয়লারের টিউব ফেটে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

বয়লারের টিউব ফেটে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই এখন বন্ধ। প্রধান প্রকৌশলী বলছেন, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
বয়লারের টিউব ফেটে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে কেন্দ্রের একমাত্র সচল থাকা ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির কোনো ইউনিট থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না।

বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধের কারণ

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের বয়লারের পুরো টিউব ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠান্ডা হলে এটির মেরামতকাজ শুরু হবে। তবে ঠিক কবে নাগাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম ইউনিটটি অনেক পুরোনো, প্রতি পাঁচ বছর পরপর মেরামত করার কথা থাকলেও এটির ইতিমধ্যে ২০ বছর হয়ে গেছে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া অন্য ইউনিটগুলোর অবস্থা

বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেন্দ্রের ৫২৫ মেগাওয়াট মোট উৎপাদনক্ষমতার মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। সর্বশেষ গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে গেলেও ১৫ দিন পর ১৪ জানুয়ারি সেটি আবার চালু করা হয়েছিল। মাত্র ৪ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরই গতকাল রোববার এটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের সব ক’টি উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে গেল।

মেরামত ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক আরও জানান, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এলেই তৃতীয় ইউনিটে আবারও উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার প্রত্যাশা, আগামী মার্চের মধ্যে এই ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরতে পারবে। তবে, দ্বিতীয় ইউনিটের যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেরামতের কাজে গড়িমসি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Tags: dinajpur rangpur division parbatipur barapukuria power plant