ইউরোপীয় ফুটবলে হ্যান্স ফ্লিকের অধীনে যে অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনার জয়যাত্রা চলছিল, তাতে এবার বড়সড় এক ধাক্কা দিল রিয়াল সোসিয়েদাদ। টানা ১১ ম্যাচে জয়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী রেকর্ড নিয়ে মাঠে নামা বার্সাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে লা লিগার এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে সোসিয়েদাদের পরিকল্পিত ফুটবল আর দৃঢ় রক্ষণভাগের কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ। এই পরাজয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানে থাকলেও দ্বিতীয় স্থানে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ এখন মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে তাদের পেছনে অবস্থান করছে।
শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা ও ‘VAR’ নাটক
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে দেখা গেছে প্রবল ‘Tactical’ লড়াই। নতুন মার্কিন কোচ পেলেগ্রিনো মাতারাজ্জোর অধীনে সোসিয়েদাদ এখন উড়ন্ত ফর্মে রয়েছে। ম্যাচের মাত্র ৩০ সেকেন্ডে মিকেল ওয়ারজাবলের একটি দর্শনীয় গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে শুরুতেই নাটকীয়তার আভাস পাওয়া যায়। পাল্টা আক্রমণে বার্সেলোনার ফেরমিন লোপেজ দূরপাল্লার শটে জালে বল পাঠালেও রেফারি দানি ওলমোর ফাউলের কারণে সেই গোলটিও বাতিল ঘোষণা করেন। প্রথমার্ধে দুই দলের আক্রমণাত্মক মেজাজ দর্শকদের জন্য এক অনন্য রোমাঞ্চ উপহার দেয়।
ইয়ামালের একক লড়াই ও সোসিয়েদাদের লিড বার্সেলোনার হয়ে ডান উইংয়ে যথারীতি ত্রাস সৃষ্টি করছিলেন তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। তার দুর্দান্ত ড্রিবলিং ও নিখুঁত পাসে বারংবার সোসিয়েদাদ রক্ষণব্যুহ কাঁপিয়ে দিলেও ভাগ্যের সহায়তা পায়নি বার্সা। উল্টো খেলার ধারার বিপরীতে লিড নিয়ে নেয় রিয়াল সোসিয়েদাদ। ম্যাচের প্রথমার্ধেই গনসালো গুয়েদেসের একটি নিখুঁত ক্রস থেকে চমৎকার ভলিতে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন মিকেল ওয়ারজাবাল। সোসিয়েদাদের এই লক্ষ্যভেদী আক্রমণ বার্সেলোনার রক্ষণভাগের দুর্বলতা প্রকট করে তোলে।
রাশফোর্ডের গোল ও গোলরক্ষকের ‘Costly Mistake’
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা নিজেদের ‘Ball Possession’ বাড়িয়ে আক্রমণের মাত্রা তীব্র করে। সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক অ্যালেক্স রেমিরো বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে বার্সাকে হতাশ করেন। ম্যাচের ৭০ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সমতা ফেরায় বার্সেলোনা। লামিন ইয়ামালের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডের মাধ্যমে বল জালে জড়ান মার্কাস রাশফোর্ড। সমতায় ফেরার আনন্দ যখন বার্সা শিবিরে বইছিল, ঠিক তখনই ঘটে মহাবিপর্যয়। বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়ার একটি মারাত্মক ভুলে ফিরতি বল থেকে দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন গুয়েদেস। এই একটি ভুলই মূলত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
১০ জনের দলের বিপক্ষেও ব্যর্থতা
ম্যাচের শেষ দিকে সোসিয়েদাদের তারকা খেলোয়াড় সোলের সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে সোসিয়েদাদ ১০ জনের দলে পরিণত হয়। শেষ ১০ মিনিট বার্সেলোনা অল-আউট আক্রমণে গেলেও সোসিয়েদাদের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। যোগ করা সময়ে (Injury Time) সরাসরি কর্নার কিক থেকে রাশফোর্ডের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে নিশ্চিত পরাজয় বরণ করতে হয় ফ্লিকের শিষ্যদের।
শিরোপা লড়াইয়ে নতুন মাত্রা
এই হারের পর লা লিগার শিরোপা লড়াই এখন আরও উন্মুক্ত হয়ে গেল। যদিও বার্সেলোনা এখনো শীর্ষে, তবে রিয়াল মাদ্রিদ যেভাবে এগোচ্ছে তাতে আগামী কয়েক ম্যাচে পয়েন্ট হারানো বার্সার জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। অন্যদিকে, কোচ মাতারাজ্জোর অধীনে টানা চার জয় নিয়ে রিয়াল সোসিয়েদাদ প্রমাণ করল, তাদের বর্তমান ‘Team Value’ এবং খেলার ধরন যেকোনো বড় দলের জন্যই এখন হুমকির নাম।