প্রেম ও বিবাহের প্রস্তুতি
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, প্রথম সংসার ভাঙার পর বেশ কিছুদিন একা ছিলেন মধুমিতা সরকার। তবে ২০২৪ সালের শেষের দিকে তিনি তার নতুন প্রেমের খবর প্রকাশ্যে আনেন। এরপর থেকেই রাখঢাকের তোয়াক্কা না করে প্রেমিক দেবমাল্য চক্রবর্তীর হাত ধরে পাহাড়-জঙ্গলসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৩ জানুয়ারি এই যুগল সাতপাকে বাঁধা পড়বেন বলে খবর।
বিয়ের মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় মধুমিতার বাড়িতে এখন উৎসবের আমেজ। বিয়ের আয়োজন নিয়ে চলছে জোর তোড়জোড়। কয়েক দিন আগেই মধুমিতা জানান, তিনি বিয়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
বিয়ের ব্যস্ততা ও ভোজনের পর্ব
বিয়ের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে মধুমিতা সরকার বলেন, ‘বাড়িতে এখন তোড়জোড় চলছে। আসলে আমাদের বাড়িতে অনেক বছর কোনো অনুষ্ঠান হয় না। তাই পুরোহিত ঠিক করা থেকে শুরু করে তত্ত্ব সাজানো— শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে সব করতে হচ্ছে। রাতে বাড়ি ফেরা থেকে পরের দিন শুটিংয়ে যাওয়া পর্যন্ত কাজ চলছে।’
বিয়ে উপলক্ষে অভিনেত্রী বর্তমানে নানা পদের ‘আইবুড়োভাত’ উপভোগ করছেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আইবুড়োভাত খাওয়াটা জমিয়ে চলছে। যদিও এখনো অনেকটাই বাকি। এটা একটা বড় স্ট্রাগল। সকলেই তো ভালোবেসে আয়োজন করে। আমি বুঝতে পারছি না আসলে কী করব। কোনটা খাব আর কোনটা ছাড়ব। কিন্তু অ্যাটেন্ড করলেও আমি খাচ্ছি কম।’
বিয়ের দিনক্ষণ ও স্থান
অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার এই বিশেষ মুহূর্তটির জন্য মুখিয়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘ওই মুহূর্তটার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। খালি দিন গুনছি। মনে হচ্ছে, এই তো আর কয়েকদিন। তার পরেই নতুন করে জীবন কাটবে।’
জানা গেছে, বারুইপুর রাজবাড়িতেই হবে বিয়ের এলাহি আয়োজন। মধুমিতা ও দেবমাল্য দুজনেরই সাবেকি সাজ প্রথম পছন্দ। সেভাবেই সাজবেন দুজনে। রিসেপশন বা বিবাহোত্তর সংবর্ধনা হবে ২৫ জানুয়ারি, যা অনুষ্ঠিত হবে শোভাবাজার রাজবাড়িতে। বিনোদন জগতের অনেকেই যে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এ বিষয়ে মধুমিতার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিনয় জীবনের সংক্ষিপ্ত পটভূমি
প্রসঙ্গত, ভারতীয় টেলিভিশন স্টার জলসায় প্রচারিত ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’ ধারাবাহিকে ‘পাখি’ চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেন মধুমিতা সরকার। ১৮ বছর বয়সে ভালোবেসে অভিনেতা সৌরভের সঙ্গে ঘর বাঁধলেও, ২০১৯ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।