• দেশজুড়ে
  • ঢাকা ও শহরতলির বাসে ই-টিকিট চালু: শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ

ঢাকা ও শহরতলির বাসে ই-টিকিট চালু: শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ

ডিএমপি ও ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে চালু হচ্ছে এই আধুনিক ব্যবস্থা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ঢাকা ও শহরতলির বাসে ই-টিকিট চালু: শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ

ঢাকা মহানগর ও শহরতলির গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও আধুনিকতা আনতে কাউন্টারভিত্তিক ই-টিকেটিং পদ্ধতি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে এই পদ্ধতির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে। এখন থেকে যাত্রীদের ই-টিকিট সংগ্রহ করে বাসে ভ্রমণ করতে হবে, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি কার্যকর হবে।

ই-টিকিটিং ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য

ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি ও ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের এই যৌথ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর করে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা। ডিএমপি'র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার জানান, যানজট নিরসনে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই ই-টিকিট সিস্টেম চালু হচ্ছে, যা বাসযাত্রী, মালিক, শ্রমিক এবং সামগ্রিকভাবে ঢাকাবাসীর জন্য সুফল বয়ে আনবে।

কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও তদারকি

এই নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নে ডিএমপি, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নসহ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন একযোগে কাজ করবে। আরবানমুভ টেক নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থার কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে এই কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে এবং এর সার্বিক সহযোগিতা ও তদারকির দায়িত্বে থাকবে পুলিশ প্রশাসন ও মালিক সমিতি।

যাত্রীদের জন্য নিয়মাবলী ও সুবিধা

নতুন ই-টিকিটিং পদ্ধতিতে যাত্রীদের জন্য কিছু নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সব বাসকে নির্ধারিত স্টপেজেই যাত্রী ওঠানামা করাতে হবে।
  • সব যাত্রীকেই অ্যাপ অথবা নির্ধারিত ডিভাইসের মাধ্যমে ই-টিকিট সংগ্রহ করে বাসে উঠতে হবে।
  • সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না।
  • শিক্ষার্থীদের জন্য আগের মতোই অর্ধেক ভাড়া কার্যকর থাকবে।

সাইফুল আলম আশা প্রকাশ করেন, এই পদ্ধতি চালু হলে রাস্তায় গাড়ির মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে, যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে, যাত্রীদের নিরাপত্তা, আরাম ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি, রাস্তায় গাড়ি থেকে চাঁদাবাজিও বন্ধ হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

টিকিট সংগ্রহের পদ্ধতি

আরবানমুভ টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুনায়েদ আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, ঢাকার ৮০০টিরও বেশি বাসস্টপে কিউআর কোড (QR Code) থাকবে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী যাত্রীরা এই কোড স্ক্যান করে অ্যাপের মাধ্যমে নিজেরা টিকিট কাটতে পারবেন। তবে, যাঁরা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, তাঁদের জন্য সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি 'টিকিট মাস্টার' নিযুক্ত থাকবেন, যাঁদের কাছ থেকেও টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

Tags: dhaka press conference dmp public transport dhaka city e-ticket transportation ticket