• দেশজুড়ে
  • আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমানকে শোকজ: সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমানকে শোকজ: সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমানকে শোকজ: সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ

রাজশাহী-১ আসনের এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সংরক্ষিত প্রতীকে ভোট চাওয়ার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে বিচারিক অনুসন্ধান কমিটি।

নির্বাচনী ময়দানে পা রাখতেই আইনি জটিলতায় পড়েছেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। নির্বাচনী আচরণবিধি (Code of Conduct) লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা ‘শোকজ’ (Show Cause) করেছে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজশাহীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোছা. কামরুন নাহার এই আদেশ জারি করেন। আদেশে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে।

ডিজিটাল এভিডেন্স ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণায় উসকানিমূলক এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজকে ডিজিটাল এভিডেন্স (Digital Evidence) হিসেবে আমলে নিয়েছে বিচারিক কমিটি।

তদন্ত কমিটির নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গোদাগাড়ীর রিশিকুল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে নিবন্ধিত নয় এমন প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষেও প্রকাশ্যে ভোট প্রার্থনা করা হয়েছে ওই সভায়।

উসকানিমূলক বক্তব্যের বিবরণ

নোটিশে সেই বৈঠকের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, সেখানে ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে— “সবকিছু এদের কাছে নিরাপদ নয়। মুজিবুর রহমান একজন ভালো মানুষ। আগামীতে নিরাপত্তাপূর্ণ স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য ন্যায়ের পক্ষে, আল-কুরআনের পক্ষে সবাই মিলে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করবেন।”

নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) মতে, ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে ভোট চাওয়া এবং বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী।

ভঙ্গ হয়েছে নির্বাচনী বিধিমালার একাধিক ধারা

বিচারিক অনুসন্ধান কমিটির মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫’-এর ১৫, ১৬ এবং ১৮ নম্বর বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টিকে ‘নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম’ (Pre-election Irregularity) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার শুনানির সময় অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হবে। সেক্ষেত্রে কমিশন তার প্রার্থীতা বাতিল বা জরিমানার মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসায় ওই আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।

Tags: code of conduct mujibur rahman judicial committee hate speech jamaat leader show cause rajshahi election electoral inquiry election violation religious appeal