• বিনোদন
  • “প্রতিটি পথকুকুরই ভারতীয়!”: সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব পর্দার ‘মসিহা’ সোনু সুদ

“প্রতিটি পথকুকুরই ভারতীয়!”: সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব পর্দার ‘মসিহা’ সোনু সুদ

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
“প্রতিটি পথকুকুরই ভারতীয়!”: সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব পর্দার ‘মসিহা’ সোনু সুদ

জনবহুল এলাকা থেকে পথকুকুর সরিয়ে ফেলার নির্দেশে উদ্বেগ প্রকাশ অভিনেতার; বিতাড়নের বদলে টিকাকরণ ও নির্বীজকরণের স্থায়ী সমাধানের পক্ষে সওয়াল।

করোনাকালে পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘মসিহা’। পর্দার খলনায়ক বাস্তব জীবনে আবির্ভূত হয়েছিলেন মানবিকতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে। সেই অভিনেতা সোনু সুদ এবার দাঁড়িয়েছেন নির্বাক ও অবলা জীবদের অধিকার রক্ষায়। সম্প্রতি পথকুকুর সংক্রান্ত একটি মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) কঠোর পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে নিজের উদ্বেগ ও দ্বিমত পোষণ করেছেন এই তারকা। তাঁর আবেগঘন প্রশ্ন— “আমরা কি একটু মানবিক হতে পারি না?”

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও জননিরাপত্তার প্রশ্ন

বুধবারের এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট তার পূর্বের কঠোর অবস্থান বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড এবং রেল স্টেশনের মতো জনবহুল এলাকাগুলিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সম্পূর্ণভাবে ‘পথকুকুর মুক্ত’ করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই কুকুরদের রাস্তা থেকে সরিয়ে স্থায়ীভাবে ‘Animal Shelter’-এ পাঠাতে হবে এবং সেখান থেকে পুনরায় ওই জনপদে ফেরানো যাবে না। আদালতের যুক্তি— প্রাণীর মনস্তত্ত্ব বোঝা মানুষের পক্ষে অসম্ভব, তাই যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (Preventative Measure) গ্রহণ করা জরুরি।

সোনু সুদের ‘দেশি’ যুক্তি ও মানবিক আবেদন

সুপ্রিম কোর্টের এই ‘বিতাড়ন’ নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে সোনু সুদ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি পথকুকুরও ভারতীয়, তাই তাদের আমরা আদর করে ‘Desi’ বলি।” সোনুর মতে, সমাজ থেকে কুকুরদের পুরোপুরি উচ্ছেদ করা কোনো স্থায়ী বা মানবিক সমাধান হতে পারে না। তিনি মনে করেন, কুকুরদের তাড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত।

অভিনেতা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, পরিকল্পনা মাফিক টিকাকরণ (Vaccination) এবং নির্বীজকরণের (Sterilization) মাধ্যমেই পথকুকুরদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। সোনু সাধারণ মানুষের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, যেভাবে গোটা দেশ একত্রিত হয়ে অতিমারির মোকাবিলা করেছে, সেভাবেই যেন এই অবলা জীবদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখার দায়িত্ব আমরা সকলে কাঁধে নিই।

পশুপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা

সোনু সুদের এই অবস্থান ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে পশু অধিকার (Animal Rights) নিয়ে কাজ করছেন, তাদের কাছে অভিনেতার এই মন্তব্য নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, কুকুরদের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সরিয়ে ফেললে পরিবেশগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে, কারণ একটি এলাকা কুকুরশূন্য হলে সেখানে অন্য এলাকা থেকে নতুন এবং অনিয়ন্ত্রিত কুকুর আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

আইনি ও সামাজিক দ্বন্দ্ব

আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ কার্যকর করা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি বড় ‘Logistics’ চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, সোনু সুদের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের এই প্রতিবাদ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জাতীয় স্তরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জননিরাপত্তা বনাম প্রাণীর অধিকার—এই চিরায়ত দ্বন্দ্বে সোনু সুদের ‘মানবিক সমাধান’ শেষ পর্যন্ত কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Tags: public safety supreme court animal rights indian law stray dogs vaccination sonu sood sterilization desi dogs animal shelter