সেই প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে একধরনের লাল ক্যাপ। যাতে স্লোগান লেখা, ‘মেক আমেরিকা গো অ্যাওয়ে’। কোপেনহেগেনের একটি পোশাকের দোকান থেকে শুরু হওয়া এই ব্যঙ্গধর্মী উদ্যোগ এখন গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে ডেনিশ সংহতির দৃশ্যমান চিহ্নে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ক্যাপটি দেখতে ট্রাম্প সমর্থকদের ব্যবহৃত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ ক্যাপের মতো হলেও তাতে লেখা রয়েছে ‘মেক আমেরিকা গো অ্যাওয়ে’ ও ‘অলরেডি গ্রেট’। দোকানের সহমালিক মাইকেল জানান, প্রথমে মাত্র ১০০টি ক্যাপ তৈরি করা হয়েছিল। মাসের পর মাস সেগুলো বিক্রি হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘ভাইরাল হওয়ার পর এটি খুব দ্রুত বিক্রি হতে শুরু করে।’
দোকানের মূল মালিক জেসপার রাবে টনেসেন একটি ক্যাপের স্লোগান তৈরি করেন, ‘নু দেত নুক’। এটি ড্যানিশ বাক্য ‘নু দেত নক’ (অর্থ: এবার যথেষ্ট)-এর শব্দখেলা, যেখানে ‘নক’-এর জায়গায় গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী ‘নুক’ ব্যবহার করা হয়েছে। টনেসেন বলেন, সহজভাবে কীভাবে অবস্থান জানানো যায়, তা ভেবেই এই স্লোগান। শনিবার কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভে তিনি কার্গো বাইকে করে প্রায় ৩০০টি ক্যাপ বিতরণ করেন।
শনিবার কোপেনহেগেন ও নুকে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’ স্লোগান দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্থাপনার দিকে মিছিল করেন। অনেকের মাথায় ছিল এই লাল ক্যাপ।
ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি। তার এই বক্তব্য ন্যাটোভুক্ত মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কূটনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে।
টনেসেন বলেন, বার্তাটি প্রকাশ্যে জানানোর জন্য মানুষের ভেতরে একটি তাগিদ তৈরি হয়েছে। আমরা যথেষ্ট দেখেছি। আমরা বিরক্ত, দুঃখিত ও ক্লান্ত।