• দেশজুড়ে
  • পদ্মাপারের ১৭ কিমি সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’: সংস্কারের অভাবে ঈশ্বরদীর দুই ইউনিয়নে চরমে জনদুর্ভোগ

পদ্মাপারের ১৭ কিমি সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’: সংস্কারের অভাবে ঈশ্বরদীর দুই ইউনিয়নে চরমে জনদুর্ভোগ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
পদ্মাপারের ১৭ কিমি সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’: সংস্কারের অভাবে ঈশ্বরদীর দুই ইউনিয়নে চরমে জনদুর্ভোগ

পিচ-খোয়া উঠে কঙ্কালসার দশা, পণ্য পরিবহনে দিশেহারা চরাঞ্চলের কৃষক; এক লাখ মানুষের গলার কাঁটা এই জনগুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মাপাড়ের মানুষের জন্য এক সময়ের আশীর্বাদ আজ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ও পাকশী ইউনিয়নের সংযোগকারী প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি এখন সংস্কারের অভাবে স্রেফ কঙ্কালসার এক পথে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় সড়কের পিচ ও সুরকি উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ফলে এই অঞ্চলের ১৫টি গ্রামের অন্তত এক লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও গ্রামীণ অর্থনীতি চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

চলাচলের অনুপযোগী ও ‘মরণফাঁদ’

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৭ কিলোমিটার এই দীর্ঘ সড়কের কোথাও পিচের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া ভার। রাস্তার অধিকাংশ জায়গায় ইট-পাথর উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক খানাখন্দ। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই গর্তগুলো ছোটখাটো ডোবায় পরিণত হয়। রিকশা, ভ্যান কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো হালকা যানবাহন চালানো এখন রীতিমতো অসাধ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন এই রাস্তায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে জরুরি চিকিৎসা বা স্কুল-কলেজে যাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা তাঁদের সময় ও খরচ উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

থমকে গেছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি ও Supply Chain

এই সড়কটি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং এটি ঈশ্বরদীর চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির প্রধান প্রাণরেখা। ঈশ্বরদীর এই অঞ্চলটি সবজি ও শস্য উৎপাদনের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। তবে সড়কের বেহাল দশার কারণে উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে গিয়ে কৃষকদের নাভিশ্বাস উঠছে। Logistics বা পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা বাধ্য হয়ে ক্ষেতেই পাইকারদের কাছে পানির দরে ফসল বিক্রি করে দিচ্ছেন। উন্নত Connectivity না থাকায় চরাঞ্চলের এই বৃহৎ কৃষিবাজার এখন ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষকদের জীবনযাত্রার মানে।

প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা

সড়কটির ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, নব্বইয়ের দশকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (WDB) বাঁধে এলজিইডি (LGED) এক লেনের রাস্তা নির্মাণ করেছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (RHD) এটি অধিগ্রহণ করে ১৮ ফুট প্রশস্ত করে দুই লেনে উন্নীত করে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত সড়কটি চলাচলের উপযোগী থাকলেও এরপর থেকে আর কোনো কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। বর্তমানে সড়কটি সওজ-এর অধীনে থাকলেও সংস্কার নিয়ে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের মতে, বারবার কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কেবল আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই মেলেনি।

জনদাবি: দ্রুত সংস্কার ও টেকসই উন্নয়ন

এলাকাবাসীর দাবি, এটি কেবল একটি সাধারণ রাস্তা নয়, বরং এটি নদী রক্ষা বাঁধের ওপর নির্মিত হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। দ্রুত এই সড়কের সংস্কার না করলে চরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামীণ Infrastructure-এর এমন বেহাল দশা থাকলে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই সরকারের উচিত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মেগা সড়কটি সংস্কার করে স্থানীয় লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো।

Tags: rural economy pabna news ishwardi road road infrastructure rhd transport problem farmers distress lakshmikunda pakshi bangladesh roads public suffering