• জীবনযাপন
  • যেখানে-সেখানে নাক খোঁটার বদভ্যাস: ছাড়ার উপায় জানুন

যেখানে-সেখানে নাক খোঁটার বদভ্যাস: ছাড়ার উপায় জানুন

শারীরিক অস্বস্তি বা উদ্বেগ—যে কারণেই হোক, নাক খোঁটার অভ্যাস অনেকেরই থাকে। তবে এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করার জন্য রয়েছে কয়েকটি সহজ টিপস।

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
যেখানে-সেখানে নাক খোঁটার বদভ্যাস: ছাড়ার উপায় জানুন

খেয়ালে বা বেখেয়ালে করা কিছু কাজ আমাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়, যার মধ্যে নাক খোঁটা অন্যতম। নাকের ভেতরের অতিরিক্ত শুষ্ক বা ভেজা ভাব কমাতে অনেকে আঙুল ব্যবহার করে থাকেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অতিরিক্ত নাক খোঁটা বা নাকের লোম তোলার চেষ্টাকে 'রাইনোটেলেক্সোমেনিয়া' নামক একটি ডিজঅর্ডার হিসেবে গণ্য করা হয়।

নাক খোঁটা কেন অস্বস্তিকর ও ক্ষতিকর?

অকারণে যেখানে–সেখানে নাক খোঁটা একটি অস্বাস্থ্যকর ও বিব্রতকর অভ্যাস। এই অভ্যাসের কারণে অন্যের সামনে আপনাকে অপ্রস্তুত হতে হয়। উপরন্তু, নাকে বারবার আঙুল দিলে নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। যেমন—নাকের ভেতরের সংবেদনশীল ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বা সংক্রমণ হতে পারে।

উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা থেকে অনেকে এই অভ্যাসটি গড়ে তোলেন, যেমনটা অনেকে নখ কামড়ানোর ক্ষেত্রে করে থাকেন। তবে নাক পরিষ্কারের প্রয়োজন হলে সকালে হাতমুখ ধোয়ার সময় বা গোসলের সময় সাবধানে তা পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত।

বদভ্যাস ছাড়ার সহজ উপায়

নাক খোঁটার এই বদভ্যাস ত্যাগ করতে কয়েকটি কার্যকর উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে।

  • স্যালাইন স্প্রে ব্যবহার: শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় নাকের ভেতরে অস্বস্তি অনুভূত হয়। এমন ক্ষেত্রে নাকে স্যালাইন স্প্রে (স্যালাইন নাসাল ওয়াশ) ব্যবহার করে ভেতরের শুষ্কতা কমানো যেতে পারে। এটি নাকের ভেতরের ময়লা বের করে আনতে সাহায্য করে এবং সিজনাল অ্যালার্জিতেও উপকারি।
  • পরিবেশগত কারণ শনাক্তকরণ: নাকে অতিরিক্ত ময়লা বা শ্লেষ্মা জমার কারণ হিসেবে ধুলাবালু, ধোঁয়া বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দায়ী হতে পারে। তাই কেন বেশি ময়লা হচ্ছে, তা খুঁজে বের করে সেই কারণের সমাধান করুন। এতে বারবার নাকে হাত দেওয়ার প্রবণতা কমবে।
  • আঙুলে ব্যান্ডেজ ব্যবহার: যাঁদের মনের অজান্তেই আঙুল নাকে চলে যায়, তাঁরা একটি কৌশল হিসেবে আঙুলে ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে রাখতে পারেন। এতে আনমনে আঙুল নাকে গেলেও ব্যান্ডেজটি আপনাকে মনে করিয়ে দেবে—‘অযথা নাকে আঙুল নয়।’
  • উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে বিকল্প উপায়: যদি মানসিক উদ্বেগের কারণে এই অভ্যাসটি আসে, তবে তা কমাতে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করুন। যেমন—পছন্দের গান শোনা, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা, বা কোনো কাজে হাতকে ব্যস্ত রাখা যেতে পারে। খেলাধুলা বা ছবি আঁকার মতো কাজও উদ্বেগ কমাতে কার্যকর।
  • শিশুদের ক্ষেত্রে সচেতনতা: শিশুরা যদি এই অভ্যাস গড়ে তোলে, তবে তাদের বকা বা ধমক না দিয়ে বুঝিয়ে বলুন এর ক্ষতিকর দিকগুলো। পাশাপাশি, সকালে ফ্রেশ হওয়ার রুটিনের মধ্যেই নাক পরিষ্কারের কাজটি অন্তর্ভুক্ত করুন। তাদের রুমাল বা টিস্যু ব্যবহারের অভ্যাস গড়তে উৎসাহিত করুন।

(সূত্র: হেলথ লাইন ও বিবিসি)

Tags: health lifestyle habits manners tips