স্মৃতির আকাশে জ্বলজ্বল নক্ষত্র
অভিনয় জগতে ধূমকেতুর মতো আগমন হয়েছিল সুশান্ত সিং রাজপুতের। তার অসম্ভব প্রতিভা আজও সকলের কাছে স্মরণীয়। সময়ের নিষ্ঠুর পরিহাসে ২০২০ সালের জুনে তার পথচলা থেমে গেলেও, ভক্তদের ভালোবাসা বা পরিবারের হাহাকার এতটুকুও কমেনি। বেঁচে থাকলে আজ তার ৪০তম জন্মদিন হতো। এই বিশেষ দিনে ভাইয়ের স্মৃতিতে বিভোর শ্বেতা সিং কীর্তি তার চিঠিতে সেই কথাই তুলে ধরেছেন।
'তুমি আমার হৃদস্পন্দনে মিশে আছো'
দীর্ঘ এবং আবেগঘন খোলা চিঠির শুরুতেই শ্বেতা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি কি তাকে মিস করি? আমি হেসে ফেলি। কারণ যে আমার হৃদস্পন্দনের সঙ্গে মিশে আছে, তাকে কীভাবে মিস করি? আমি প্রতিটি মুহূর্তে তাকে অনুভব করি। আমার প্রার্থনা, নীরবতা আর হাসিতে সে মিশে আছে।" এই কথাগুলো সুশান্তের প্রতি তার বোনের গভীর, অবিচ্ছেদ্য ভালোবাসারই প্রকাশ।
অনুসন্ধানী মন ও স্বপ্নদ্রষ্টা
সুশান্ত যে কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, তা উল্লেখ করে শ্বেতা লিখেছেন, "সুশান্ত শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক অনুসন্ধানী মন, এক স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন তারাদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করতে, সীমার বাইরে গিয়ে ভাবতে এবং সাহসের সঙ্গে ভালোবাসতে।" এই উক্তিগুলি সুশান্তের বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক মননের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
মৃত্যু রহস্যের আইনি নিষ্পত্তি ও বোনের বিশ্বাস
২০২০ সালের জুন মাসে সুশান্তের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তার মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্য ও জল্পনা চলে। অবশেষে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সিবিআই তাদের ক্লোজার রিপোর্টে জানায় যে সুশান্তের মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে আইনি ফলাফল যা-ই হোক, শ্বেতার কাছে সুশান্ত আজও এক জীবন্ত শক্তি। তার দৃঢ় বিশ্বাস, "তুমি চলে যাওনি, তুমি সর্বত্র আছো।"