আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকেই বিএনপি, জামায়াত ও ১০ দলীয় জোটসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রাজপথে নেমেছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তারা দিচ্ছেন আধুনিক নগর গড়া ও নাগরিক অধিকার রক্ষার নানা প্রতিশ্রুতি।
ঢাকা-১৭: তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের প্রচারণা এই আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটে নির্বাচনি জনসভায় ব্যস্ত থাকায় তার পক্ষে স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পুলিশ প্লাজা চত্বর থেকে প্রচারণা শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মো. আবুল কাশেম, আহ্বায়ক ইথুন বাবু এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক রিজিয়া পারভীন। তারা ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
অন্যদিকে, এই আসনে ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান জামায়াত আমিরের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ একটি রূপান্তরিত দেশ। আমি পুরো দেশ ঘুরে দেখেছি, সর্বত্র একটি অসুস্থতা বিরাজ করছে। এই মুহূর্তে দেশের এই অসুস্থতা সারাতে ডা. শফিকুর রহমানের কোনও বিকল্প নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, তারা এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে চান যেখানে মা-বোনরা তাদের পূর্ণ অধিকার পাবেন এবং কেউ জুলুমের শিকার হবেন না। ঢাকা-১৫: ইনসাফ কায়েমের ডাক ডা. শফিকুর রহমানের
ডা. শফিকুর রহমানের দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে ১০ দলীয় জামায়াত জোটের এক বিশাল জনসভায় প্রচারণা শুরু করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “নির্বাচিত হলে এ এলাকায় বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আধুনিক সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। আমরা কোনও চাঁদাবাজির রাজনীতি করি না; বরং ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিই আমাদের লক্ষ্য।” ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে তিনি আসন্ন গণভোটে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ঢাকা-১১: নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা চাইলেন নাহিদ ইসলাম
নাহিদ ইসলাম জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, “মানুষ মিথ্যা আশ্বাস বা ফ্ল্যাট চায় না, তারা চায় নিরাপদ জীবন। অতীতে যারা বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারা আসলে উচ্ছেদের রাজনীতি করেছেন।” তিনি ফ্যামিলি কার্ডের নামে রাজনৈতিক দুর্নীতির সমালোচনা করে ন্যায়ের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা-১৩: মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার মাওলানা মামুনুল হকের
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক তার নির্বাচনি এলাকা মোহাম্মদপুর-আদাবরকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, “আমরা জীবন দিয়ে হলেও জনগণের অধিকার আদায়ের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো।” তিনি ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ঢাকা-৬: ‘আজীবন পাশে থাকবো’—ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন
পুরান ঢাকার সমস্যা সমাধানে জোরালো ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, “আমি আপনাদেরই সন্তান। আমি কোনও গালগল্প বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ অনেক সচেতন হয়েছে, তারা যোগ্য নেতৃত্বই বেছে নেবে।” তিনি আজীবন এলাকার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।
ঢাকা-১৪: জামায়াতের ‘ভূমিধস বিজয়ের’ আশাবাদ
এই আসনে ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান মিরপুর-২ নম্বরে তার নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধন করেছেন। এ সময় তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের ‘ভূমিধস বিজয়ের’ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ এখন কালো টাকা ও পেশিশক্তিমুক্ত একটি মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। ভোটাররা এমন নেতৃত্ব খুঁজছেন যাদের টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব নয়।” তিনি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে সততা ও নৈতিকতার রাজনীতি করার অঙ্গীকার করেন।
ঢাকা-১১: বিএনপি প্রার্থী কাউয়ুমের নির্বাচনি প্রচারণা
আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাউয়ুম রাজধানীর গুদারাঘাট এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছেন। বাড্ডা থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বাবুর নেতৃত্বে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তারা সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের সমর্থনে মিছিল বের করেন।
প্রচারণার প্রথম দিনে ঢাকার সড়কগুলোতে মিছিল ও স্লোগানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রতিটি আসনেই প্রার্থীরা ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।