কখনও সকালে ভোট দিতে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যালট আগেই চুরি হয়ে গেছে, আবার কখনও ভোটারদের সামনে দিয়েই ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতার কারণেই দেশের মানুষ এখন একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। নির্বাচন নিয়ে কোনও ধরনের শঙ্কা নেই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
শুক্রবার বিকালে মানিকগঞ্জের গড়পাড়া ইমামবাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন– গড়পাড়া ইমামবাড়ির খাদেম ও বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, পীরজাদা শাহজাদা রহমান বাঁধন এবং পীরজাদা শাহজাদা তাজিনুর রহমান তাজ।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ভোটের বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘নয় মাস ধরে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় সংস্কার কমিশনের আলোচনা শেষে এই গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণভোটের গুরুত্ব উপলব্ধি করেই এই দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং এর ফলাফল হিসেবে জুলাই সনদ সামনে এসেছে। সেই সনদের পক্ষেই এখন ‘হ্যাঁ’ভোট দেওয়া হচ্ছে। সব রাজনৈতিক দলই ‘হ্যাঁ’ভোটের পক্ষে মত দিচ্ছে, তবে নিজেদের প্রচারণা নিয়ে হয়তো তারা কিছুটা ব্যস্ত।
‘সরকার দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে সবাই বুঝতে পারেন কেন ‘হ্যাঁ’ভোট দেওয়া জরুরি। ‘হ্যাঁ’ভোটের মাধ্যমে যেন দেশে আর কোনও স্বৈরাচার ফিরে না আসে, অপশাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং সাধারণ মানুষের ব্যাংকের টাকা কেউ লুটপাট করতে না পারে— এটাই এর মূল উদ্দেশ্য।’
মিডিয়া সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইনকে আরও সহজ ও কার্যকর করা হয়েছে। কীভাবে সূচিপত্র তৈরি হবে, কীভাবে রিপোর্ট করা হবে এবং কীভাবে তথ্যের ওপর নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে— এসব বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই সরকার ১৮ মাস ধরে দায়িত্বে রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সবকিছু করা সম্ভব নয়। যেসব বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলো নিয়েই সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। সব খাতে সংস্কার করার ইচ্ছা থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।’
মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের ভক্তদের ওপর হামলার বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ শিল্পীর স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। বিচারগান ও বিচ্ছেদ গানে শিল্পীরা নানা ধরনের কথা বলেন। এ ক্ষেত্রে কিছু ইউটিউবারও আংশিকভাবে দায়ী। অনেক সময় ইউটিউবাররা পুরো বিচারগান প্রকাশ না করে কেবল মুখরোচক অংশ কেটে প্রচার করেন, যা পরে ভাইরাল হয়। এতে গানের মূল প্রেক্ষাপট বা কনটেন্ট নষ্ট হয়ে যায় এবং কিছু বিচ্ছিন্ন কথার ওপর ভিত্তি করে সামাজিক বিভ্রান্তি ও কলহ সৃষ্টি হয়।’