২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পেহেলগাম কাণ্ডে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা ভারত। জঙ্গিদের গুলিতে সেদিন ২৫ জন নিরীহ পর্যটক প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার (Terror Attack) মর্মান্তিক স্মৃতি ফিরে এল গানের রিয়্যালিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’-এর মঞ্চে, যা দর্শকদেরও গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেই ঘটনায় নিহত এক পর্যটকের স্ত্রী ঐশান্যা দ্বিবেদী। স্বামীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং তাঁর শোকে বিচারক থেকে শুরু করে উপস্থিত সেনা জওয়ান-রাও (Army Jawan) অশ্রুসিক্ত হন। নিহত ওই পর্যটকের নাম ছিল শুভম।
বিয়ের দু'মাস পরই শোকের ছায়া: মঞ্চে নিহত স্বামীর স্ত্রীর আবেগ
প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে তৈরি করা ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’-এর বিশেষ পর্বটিতে ঐশান্যা তাঁর স্বামীর স্মৃতি ভাগ করে নেন। একটি প্রকাশিত ঝলকে দেখা যায়, ঐশান্যা জানাচ্ছেন, তাদের বিয়ে হয়েছিল মাত্র দু'মাস আগে। পর্যটকদের মধ্যে প্রথম গুলি তাঁর স্বামী শুভমকেই করা হয়েছিল।
সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে ঐশান্যা নিজের কপালে আঙুল দিয়ে দেখান, ঠিক কোথায় গুলি লেগেছিল। তাঁর এই মর্মান্তিক স্মৃতিচারণ শো-এর পরিবেশকে মুহূর্তে গম্ভীর করে তোলে। বিচারকের আসনে থাকা শ্রেয়া ঘোষাল ও বিশাল দাদলানি নিজেদের আবেগ (Emotion) সামলাতে পারেননি, যা টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়।
সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা, মঞ্চে সেনা জওয়ান-দের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে ভারতীয় সেনার বেশ কয়েকজন সেনা জওয়ানও উপস্থিত ছিলেন। ঐশান্যা তাঁদের উদ্দেশে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “ভারতীয় সেনা, আপনারা ওই ২৬ জন বোনের হয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন। আমি সত্যিই গর্বিত।” তাঁর এই বক্তব্য ভারতীয় সেনার ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে, তবে একই সঙ্গে এই বক্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কও শুরু হয়।
প্রশ্ন তুলছে সোশ্যাল মিডিয়া: কেন শুধু একটি পরিবার ?
এই পর্বটি সম্প্রচার হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম-গুলোতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একদিকে যেমন ঐশান্যার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন নেটিজেনরা, তেমনই অনেকে আবার আয়োজকদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
অনেকে মন্তব্য করেছেন—কেন শুধু একজন মৃত পর্যটকের স্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলো, পেহেলগাম হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসা উচিত ছিল কি না। আবার কেউ কেউ ঐশান্যার সেনাবাহিনীর প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। সমালোচকদের প্রশ্ন, "প্রকৃতপক্ষে কি প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে? হামলাকারীরা কোথায় এখন?"। আদৌ প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়াতে তর্কবিতর্ক চলছে, যা এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে।