• ব্যবসায়
  • বেনাপোল বন্দরে একদিনেই ১১ লাখ টাকার ভ্রমণ কর ও ১০ কোটি টাকার রাজস্ব: তবুও কাটছে না বাণিজ্যের মন্দা

বেনাপোল বন্দরে একদিনেই ১১ লাখ টাকার ভ্রমণ কর ও ১০ কোটি টাকার রাজস্ব: তবুও কাটছে না বাণিজ্যের মন্দা

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
বেনাপোল বন্দরে একদিনেই ১১ লাখ টাকার ভ্রমণ কর ও ১০ কোটি টাকার রাজস্ব: তবুও কাটছে না বাণিজ্যের মন্দা

আমদানি-রফতানি ও যাত্রী যাতায়াতে বড় অংকের আয় হলেও ভিসা জটিলতা ও বাণিজ্যের নানাবিধ নিষেধাজ্ঞায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের বৃহত্তম এই স্থলবন্দর।

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান প্রাণকেন্দ্র বেনাপোল স্থলবন্দরে এক দিনে ১০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আহরিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ৩৭৬ ট্রাক পণ্য আমদানির বিপরীতে বাণিজ্য খাত থেকে এই বিশাল অংকের রাজস্ব অর্জিত হয়। একই সময়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত থেকে সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে প্রায় ১১ লাখ টাকার ভ্রমণ কর। তবে এই বড় অংকের আয়ের মধ্যেও আমদানিতে ঘাটতি এবং বাণিজ্যের স্থবিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান: আমদানি বনাম রফতানি

বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে গত শনিবার সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ট্রেড অপারেশন (Trade Operation) পরিচালিত হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ভারত থেকে এদিন ২৭৬ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল ও পণ্য এবং ৩২টি চ্যাচিজ আমদানি হয়েছে। আমদানিকৃত পণ্যের তালিকায় ছিল শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল (Raw Materials), তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, শিশুখাদ্য, মেশিনারিজ পার্টস, অক্সিজেন ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে মাত্র ১০০ ট্রাক পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে। রফতানিকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল টিস্যু, মেলামাইন, কেমিক্যাল, মাছ ও নামী ব্র্যান্ডের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী। ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে পাট ও পাটজাত পণ্য এবং আসবাবপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইটেম রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে, দেশীয় শিল্প সুরক্ষার অজুহাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) সুতা আমদানির ওপর বিধিনিষেধ জারি করায় আমদানির পরিধিও সংকুচিত হয়েছে।

টাকার মান ও লজিস্টিক খরচ (Logistics Cost)

স্থানীয় মানিচেঞ্জার ও ট্রান্সপোর্ট সূত্র অনুযায়ী, বর্তমান বাজারে বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিপরীতে মাত্র ৭৫ ভারতীয় রুপি মিলছে। অন্যদিকে, প্রতি মার্কিন ডলারের বিক্রয় মূল্য ১২৬ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। মুদ্রার এই ওঠানামা বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও খরচের হার বেশ চড়া। বেনাপোল থেকে ঢাকা পর্যন্ত পচনশীল পণ্যের ট্রাক ভাড়া ২০-২২ হাজার টাকা এবং চট্টগ্রামের জন্য ৩০-৩২ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। সাধারণ পণ্যের ক্ষেত্রে এই ভাড়া কিছুটা কম হলেও তা সামগ্রিক বিজনেস কস্ট (Business Cost) বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ভিসা জটিলতা ও যাত্রী যাতায়াতের চিত্র

বিগত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভিসা জটিলতায় পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১২৪৬ জন যাত্রী দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে ভারতে গিয়েছেন ৬২০ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ৬২৬ জন।

উল্লেখ্য যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পাসপোর্টধারীকে ভারত ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ১০৬১ টাকা কর (ভ্রমণ কর ১০০০ ও বন্দর কর ৬১) দিতে হয়। তবে চলতি মাস থেকে ভারত অংশও পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি ও ভারতীয় যাত্রীদের ওপর নতুন করে ৪০০ রুপি ভ্রমণ কর আরোপ করেছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা সাধারণ যাত্রীদের ভারত ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করছে।

রাজস্ব ঘাটতি ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ ট্রাক পণ্য আনা-নেওয়া হতো, যা এখন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত এক বছর ধরে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্যিক বৈঠক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক বিড়ম্বনা চরমে পৌঁছেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বেনাপোল বন্দরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১২ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্যের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যবর্তী বাণিজ্যিক বিধিনিষেধগুলো শিথিল করা জরুরি।

রেলপথের চিত্র: নিথর মৈত্রী এক্সপ্রেস

পণ্যবাহী ট্রাকের পাশাপাশি একসময় রেলপথেও বিপুল পরিমাণ আমদানি হতো। বর্তমানে রেলপথে কেবল ভারত থেকে ট্রাক্টর আমদানি হচ্ছে। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কারণে ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচলকারী ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’সহ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যা সাধারণ পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tags: bangladesh india revenue deficit import export border trade benapole port trade revenue travel tax logistics cost petrapole border currency rate