স্বর্ণের আকাশছোঁয়া দামের সমান্তরালে দেশের বাজারে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রুপার দামও। সাধারণ মধ্যবিত্তের অলঙ্কার হিসেবে পরিচিত এই ধাতুর দাম এখন ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সবশেষ ৫টি মূল্য সমন্বয়ের মধ্যে ৪ বারই বেড়েছে রুপার দাম, যার মধ্যে গত টানা ২ দফাতেই ভরিতে মোট ৮৭৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এক নজরে নতুন দাম ও রেকর্ড মাইলফলক
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS) রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তে প্রতি ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৭ হাজার টাকার ঘর অতিক্রম করল।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) রুপার দাম এখন ৭ হাজার ২৩২ টাকা। এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে রুপার সর্বোচ্চ Market Value।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৯৪০ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা।
অতিরিক্ত খরচ: ভ্যাট ও মজুরি
বাজুস স্পষ্ট করেছে যে, নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ক্রেতাকে বাধ্যতামূলকভাবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট (VAT) প্রদান করতে হবে। এছাড়া গহনা তৈরির জন্য বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বা Wage Charge যুক্ত হবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও মানভেদে এই মজুরির তারতম্য হতে পারে।
টানা দুই দফায় বড় উল্লম্ফন
এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি রুপার দাম একলাফে ৫২৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছিল ৬ হাজার ৮৮২ টাকায়। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৫০ টাকা যোগ হওয়ায় দুই দফায় মোট দাম বাড়ল ৮৭৫ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (Pure Silver) সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকে এই উর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
স্বর্ণের বাজারেও আগুনের আঁচ
রুপার পাশাপাশি স্বর্ণের বাজারও এখন সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। নতুন সিদ্ধান্তে স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা। এটিও দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম। চলতি বছর এ নিয়ে ১৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো, যার মধ্যে ১০ বারই ছিল মূল্যবৃদ্ধির খবর।
বাজার পরিস্থিতির পরিসংখ্যান
২০২৬ সালের শুরু থেকেই ধাতু দুটির বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ১০ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭ বারই দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, বিগত ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হলেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল রেকর্ড ৯৩ বার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি এবং ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার মানের পরিবর্তনের কারণে মূল্যবান এই ধাতুগুলোর বাজারে এই অস্থিরতা বিরাজ করছে। ক্রেতাদের মধ্যে গহনা কেনার চেয়ে এখন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপা সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লেও, অস্বাভাবিক দামের কারণে Consumer Demand বা সাধারণ চাহিদা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।