দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন জগতে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড ‘অ্যাস্ট্রো’ (ASTRO) সদস্য এবং জনপ্রিয় অভিনেতা চা ইউন-উ। তবে এবার কোনো নতুন গান বা ড্রামা নিয়ে নয়, বরং প্রায় ২০০ বিলিয়ন ওন (১৩.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) কর ফাঁকির (Tax Evasion) গুরুতর অভিযোগে ফেঁসে গেছেন এই তারকা। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় কর দপ্তর বা ন্যাশনাল ট্যাক্স সার্ভিস (NTS) ইতোমধ্যেই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগের নেপথ্যে চতুর ‘ট্যাক্স প্ল্যানিং’
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনটিএস-এর তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, চা ইউন-উ তার আয়ের একটি বড় অংশ নিজের নামে না দেখিয়ে তার মায়ের নামে নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন। তদন্তকারীদের ধারণা, এটি একটি ‘পেপার কোম্পানি’ (Paper Company), যার বাস্তবে কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই।
মূলত ব্যক্তিগত আয়কর বা Personal Income Tax-এর উচ্চ হার এড়াতেই এই কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যক্তিগত আয়ের ওপর করের হার সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বিপরীতে, করপোরেট কর (Corporate Tax) তুলনামূলক অনেক কম। চা ইউন-উ তার ব্যক্তিগত আয়কে ‘করপোরেট আয়’ হিসেবে দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
আয় বণ্টনের জটিল সমীকরণ
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, চা ইউন-উর অফিশিয়াল এজেন্সি ‘ফ্যান্টাজিও’ (Fantagio) থেকে প্রাপ্ত আয়কে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে— একটি অংশ গেছে ফ্যান্টাজিওর পকেটে, দ্বিতীয় অংশটি চা ইউন-উ নিজে নিয়েছেন এবং তৃতীয় ও বড় একটি অংশ স্থানান্তর করা হয়েছে তার মায়ের ওই নামসর্বস্ব কোম্পানিতে। এই চতুর আয়-বণ্টনের ফলে তার মোট কর প্রদানের হার (Tax Bracket) প্রায় ২০ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে। এনটিএস-এর হিসাব অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় সরকারের পাওনা প্রায় ২০ বিলিয়ন ওনেরও বেশি কর কম দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন বাজারে ধস ও ক্যারিয়ারে অনিশ্চয়তা
যদিও চা ইউন-উর বিরুদ্ধে এখনও কোনো ফৌজদারি মামলা (Criminal Case) দায়ের করা হয়নি, তবে এই আর্থিক কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই তার ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা লেগেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞাপন বাজারে তার আকাশচুম্বী চাহিদা থাকলেও, ব্র্যান্ড ইমেজ রক্ষায় ইতোমধ্যেই একাধিক বৈশ্বিক ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। অনেক নামী ব্র্যান্ড তাদের প্রচার থেকে চা ইউন-উর ছবি ও ভিডিও সরিয়ে নিচ্ছে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এনটিএস-এর এই মূল্যায়ন চূড়ান্তভাবে বহাল থাকে, তবে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন ইতিহাসের অন্যতম বড় কর ফাঁকির মামলা হিসেবে গণ্য হবে। কারণ, সংশ্লিষ্ট প্রকৃত আয়ের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ওন ছাড়িয়ে যেতে পারে। কর ফাঁকির বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাকে কেবল জরিমানাই নয়, বরং বড় ধরনের আইনি শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চা ইউন-উ বা তার এজেন্সি ফ্যান্টাজিওর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে জনপ্রিয় এই আইডলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এখন বড় ধরনের সংকটে, যা কেবল তার ব্যক্তিজীবন নয়, বরং পুরো কে-পপ ইন্ডাস্ট্রির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।