৬ মাসের জন্য স্থিতাবস্থা জারি
বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজি এবং বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদ-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি এই আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিদ্যুৎ লাইন, পানির সংযোগ বা অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা বন্ধ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশের পেছনের কারণ
রিহ্যাব-এর পক্ষ থেকে আদালতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য গুরুতর ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। ভবন তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা বা আংশিক তৈরি ভবনে বসবাসরত পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, বিশেষ করে পানি ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা এবং সামগ্রিক মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। আদালত মনে করেন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে যে নানা সংকট তৈরি হয়, তা বিবেচনায় নিয়েই এই আদেশ জরুরি ছিল।
আবাসন খাতে সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের প্রভাব
বিগত কয়েক মাসে রাজউক, ডেসকো, ডিপিডিসি ও অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সহায়তায় প্রায় ১২০০টিরও বেশি নির্মাণাধীন ও আংশিক সম্পন্ন ভবন থেকে বিদ্যুৎ মিটার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ডেভেলপারদের প্রকল্পে এভাবে ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় অনেক নির্মাণ প্রকল্প কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছিল।
এর ফলে নির্মাণকাজ আটকে যাওয়া, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বেকার হয়ে পড়া, ফ্ল্যাট হস্তান্তর প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়া এবং ডেভেলপারদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়। একই সাথে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি রক্ষা এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো সমস্যাও আবাসন খাতকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছিল।
রিহ্যাবের উদ্যোগ
আবাসন খাতের এই বাস্তব পরিস্থিতি ও চরম ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আদালতের শরণাপন্ন হয়। রিহ্যাবের আবেদনের প্রেক্ষিতেই হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এই গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন। এ আদেশের ফলে আবাসন শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবে।