• জাতীয়
  • দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য: বাংলাদেশের শান্তি ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরে গুরুতর হুমকি—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য: বাংলাদেশের শান্তি ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরে গুরুতর হুমকি—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনাকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উসকানির জন্য সংগঠনটিকে দায়ী করবে সরকার।

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য: বাংলাদেশের শান্তি ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরে গুরুতর হুমকি—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে একটি জনসভায় প্রকাশ্যে বাংলাদেশ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার এবং আসন্ন নির্বাচন ব্যাহত করার উসকানি দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বক্তব্যকে বাংলাদেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধী ও পলাতক আসামিকে এ ধরনের উসকানিমূলক বিবৃতি দেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ গভীরভাবে বিস্মিত ও হতবাক।

দিল্লিতে উসকানিমূলক বক্তব্যের অনুমতি—সরকার হতবাক

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল রোববার (জানুয়ারি ২৬, ২০২৬) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে জনসভায় পলাতক শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণ বিস্মিত। ওই জনসভায় তিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশ সরকারকে অপসারণের আহ্বান জানান এবং তার দলের অনুগত ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য স্পষ্টতই উসকানি দেন। বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ব্যাহত করার জন্য তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রত্যর্পণ চুক্তি লঙ্ঘন ও কূটনৈতিক আদর্শের পরিপন্থী

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, ভারত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা পূরণ না করে, বরং তাকে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তোলে। ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের ঘৃণ্য বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের আদর্শের পরিপন্থী এবং এটি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক নজির

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, গণহত্যাকারী হাসিনাকে প্রকাশ্যে এমন সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে। এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতে নির্বাচিত রাজনীতির পারস্পরিক, উপকারী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গঠন এবং লালনের ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই ধরনের নির্লজ্জ উসকানি আবারও প্রমাণ করেছে, কেন অন্তর্বর্তী সরকার তাদের (শেখ হাসিনার দল) কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল।

সরকারের কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সহিংসতা এবং সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটানোর জন্য বাংলাদেশ এই সংগঠনটিকে দায়ী করবে। পাশাপাশি, এর দুষ্ট ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

Tags: sheikh hasina bangladesh politics india bangladesh relations delhi-speech ministry-of-foreign-affairs transitional-government election-interference