• জীবনযাপন
  • জার্মান নিউরোসায়েন্টিস্টের মতে: ৫টি ভুল সকালের অভ্যাস যা সারা দিনের মনোযোগ নষ্ট করে

জার্মান নিউরোসায়েন্টিস্টের মতে: ৫টি ভুল সকালের অভ্যাস যা সারা দিনের মনোযোগ নষ্ট করে

জার্মানির এক নিউরোসায়েন্টিস্টের মতে, আমরা প্রতিদিন সকালে এমন কিছু ভুল করি যা আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও সারা দিনের মেজাজ নষ্ট করে। ফোন ব্যবহার থেকে শুরু করে নাশতার ধরন—সবকিছুতেই লুকিয়ে আছে এই ভুলগুলো।

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
জার্মান নিউরোসায়েন্টিস্টের মতে: ৫টি ভুল সকালের অভ্যাস যা সারা দিনের মনোযোগ নষ্ট করে

আমাদের দিন কেমন কাটবে, মেজাজ কেমন থাকবে বা কাজে কতটা মনোযোগ থাকবে—এই সবকিছু নির্ভর করে ঘুম ভাঙার পর প্রথম ৬০ থেকে ৯০ মিনিটের ওপর। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান কগনিটিভ অ্যান্ড ব্রেইন সায়েন্সের নিউরোসায়েন্টিস্ট প্যাট্রিসিয়া শ্মিটের মতে, আমাদের বেশিরভাগেরই ৫টি ভুল অভ্যাস রয়েছে যা অজান্তেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

১. চোখ খুলেই ফোনের স্ক্রিনে তাকানো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৪ শতাংশ মানুষ ঘুম থেকে ওঠার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই মোবাইল ফোন চেক করে। এটি একটি মহামারির মতো অভ্যাস। ঘুম থেকে ওঠার প্রথম ৩০-৪৫ মিনিট আমাদের শরীরে কর্টিসোল হরমোনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে, যা 'কর্টিসোল অ্যাওয়েকেনিং রেসপন্স' নামে পরিচিত এবং এটি আমাদের সারাদিনের জন্য প্রস্তুত করে। কিন্তু স্ক্রিনে তাকালে, সোশ্যাল মিডিয়া বা নেতিবাচক খবর দেখলে মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় চাপে পড়ে এবং এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে সারাদিন অস্থিরতা কাজ করে এবং ডোপামিনের ভুল ব্যবহার মেজাজ খারাপ করে দিতে পারে। তাই ঘুম ভাঙার পর অন্তত ৪৫ মিনিট ফোন থেকে দূরে থাকুন।

২. সকালের প্রাকৃতিক আলো এড়িয়ে যাওয়া আমরা এখন ঘরকুনো হয়ে গেছি। দিনের বেশিরভাগ সময় আমরা কৃত্রিম আলোর নিচে থাকি। কিন্তু আমাদের দেহের ভেতরের ঘড়ি বা 'সার্কেডিয়ান রিদম' চলে আলোর ইশারায়। সকালে চোখের রেটিনায় আলো পড়লে মস্তিষ্কের একটি অংশ সজাগ হয়, যা কর্টিসোল হরমোন বাড়ায় এবং ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন কমায়। এছাড়া সকালের আলো সেরোটোনিন তৈরি করে, যা মন ভালো রাখে। সকালে পর্যাপ্ত আলো না পেলে সারাদিন ঝিমুনি আসে ও রাতে ভালো ঘুম হয় না। তাই ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিটের মধ্যে কমপক্ষে ১০ মিনিট প্রাকৃতিক আলোতে যান, প্রয়োজনে উজ্জ্বল বাতির সামনে কিছুক্ষণ থাকুন।

৩. ঘুম থেকে উঠেই কঠিন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া অনেকে মনে করেন, সকালে সতেজ মনে কঠিন কাজ দ্রুত সেরে ফেলবেন। তাই বিছানা ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ল্যাপটপ নিয়ে বসে যান। কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার পর মস্তিষ্ক কিছুটা আড়ষ্ট থাকে। তখন চিন্তা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ধীরে কাজ করে। এই সময়টা সৃজনশীল কাজের জন্য ভালো হলেও, গভীর মনোযোগের কাজের জন্য মোটেও সঠিক নয়। গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট দেওয়ার পরপরই যেমন ফুল স্পিডে চালানো ঠিক নয়, মস্তিষ্কের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তাই ঘুম থেকে উঠে হাঁটাচলা, আলো-বাতাস লাগানো এবং পানি খাওয়ার মতো হালকা কাজ দিয়ে দিন শুরু করে তারপর কঠিন কাজ ধরুন।

৪. চিনিযুক্ত নাশতা দিয়ে দিন শুরু করা সকালে খালি পেটে পাউরুটি-জ্যাম বা চিনি দেওয়া চা-এর মতো অতিরিক্ত চিনি বা শর্করা খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যায়, এবং কিছুক্ষণ পরই তা দ্রুত কমে যায়। গ্লুকোজের এই দ্রুত ওঠানামা মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে মনোযোগ কমে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয় এবং 'ব্রেইন ফগ' তৈরি হতে পারে। ব্রেইন ফগ কোনো রোগ নয়, তবে এটি মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন করে দেয়। তাই সকালের নাশতায় ২৫-৩৫ গ্রাম প্রোটিন বা আমিষের দিকে নজর দিন। এতে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকবে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিক থাকবে।

৫. পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খাওয়া রাতে দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের শরীর পানি থেকে বঞ্চিত হয়। শ্বাস-প্রশ্বাস এবং ঘামের মাধ্যমেও শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। ফলে সকালে আমরা কিছুটা পানিশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড থাকি। মস্তিষ্কের একটি বড় অংশই পানি দিয়ে গঠিত। সকালে এই জলের ঘাটতি পূরণ না হলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়, মেজাজ খারাপ হয় এবং মাথাব্যথা হতে পারে। ডিহাইড্রেশন কর্টিসোল লেভেলও বাড়িয়ে দেয়, যা সকালের শান্তি নষ্ট করে। তাই ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান করুন এবং বিছানার পাশেই পানির বোতল রাখুন।

এই ৫টি অভ্যাস হয়তো ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু নিয়মিত এগুলি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫৩ শতাংশ মানুষ ২৪ ঘণ্টার বেশি ফোন ছাড়া থাকতে পারে না। এই আসক্তি ও ভুল রুটিন থেকে বেরিয়ে আসুন। ছোট ছোট এসব পরিবর্তনই আপনার দিনটিকে আমূল বদলে দিতে পারে।

Tags: health sleep exercise habits water