রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় বসিলা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান (Special Operation) চালিয়ে কিশোর গ্যাং সদস্য ও চিহ্নিত মাদক কারবারিসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গভীর রাতের অভিযান ও রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি
বসিলা আর্মি ক্যাম্প সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের (Intelligence) ভিত্তিতে জানা যায় যে, মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার ও বসিলা টেক্কা মিয়ার মোড় এলাকায় একদল কিশোর গ্যাং সদস্য ও মাদক কারবারি একত্র হয়ে বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে রোববার রাত ২টা পর্যন্ত টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা বসিলা ও সংলগ্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায় সেনাবাহিনী।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়
অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ৬ ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল বলে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বাচ্চু (৩৫), সাগর (১৯), রুদ্র (২১), সাখাওয়াত (২৭), শুক্কুর (৪৫) ও রাকিব (২৮)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওই এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং ছিনতাইসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
অভিযান শেষে গ্রেফতারকৃতদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে:
২টি ধারালো তলোয়ার ও ৩টি বিশাল সামুরাই (Samurai)।
১টি চাইনিজ কুঠার (Chinese Axe)।
১০২ পুরিয়া হেরোইন ও ৩৯৫ পুরিয়া গাঁজা।
৪টি মোবাইল ফোন এবং মাদক বিক্রির নগদ ৪৩ হাজার ৮৫০ টাকা।
আইনি প্রক্রিয়া ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধারকৃত আলামতসহ তাদের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, মোহাম্মদপুরের অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত বসিলা ও রায়েরবাজারে সেনাবাহিনীর এই ঝটিকা অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং 'জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় রেখে মোহাম্মদপুরের প্রতিটি অলিগলিতে নিয়মিত এই ধরনের 'কম্বাইনড অপারেশন' অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সেনা কর্তৃপক্ষ।