শুটিং সেটে অভিযোগের সূত্রপাত
অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি অভিযোগ করেন, শুটিং চলাকালীন জাস্টিন বালদোনি এবং তাঁর ব্যবস্থাপনা-বিশেষজ্ঞ তাঁকে শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করেন। ডিসেম্বর ২০২৪-এ দায়ের করা মামলায় লাইভলি উল্লেখ করেন, সেটে অশালীন মন্তব্য, পর্নোগ্রাফি নিয়ে আলোচনা এবং তাঁর উপস্থিতিতে অশ্লীল ভিডিও দেখানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, জনসংযোগ টিমের নেতৃত্বে একটি পরিকল্পিত চরিত্রহনন অভিযান চালানো হয়েছে।
বালদোনির পাল্টা মামলা ও ৪০০ মিলিয়ন ডলার দাবি
জানুয়ারি ২০২৫-এ বালদোনি পাল্টা মামলা দায়ের করে লাইভলি এবং তাঁর স্বামী রায়ান রেনল্ডসের বিরুদ্ধে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “এটি কোনো আচরণগত অপরাধ নয়, বরং ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত।”
বিচারকের রায় ও মামলার মোড়
জুন ২০২৫-এ এক ফেডারেল বিচারক বালদোনির মানহানির অভিযোগ খারিজ করে দেন। আদালতের মতে, প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ হয়নি। যদিও এর ফলে মামলার পরিসর সীমিত হয়, সাধারণ মানুষের আগ্রহ এতে কমেনি।
সাক্ষী হিসেবে টেইলর সুইফট ও ব্যক্তিগত কথোপকথন
মে ২০২৫-এ সুপারস্টার টেইলর সুইফটকে সাক্ষী হিসেবে সমন পাঠানো হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে আদালতের নথিতে তাঁর নাম থেকে যায়। জানুয়ারি ২০২৬-এ আদালতের নথিতে লাইভলি ও সুইফটের বার্তালাপ প্রকাশ্যে আসে। একটি বার্তায় সুইফট বালদোনির জনসংযোগ কৌশলকে কটূ ভাষায় উল্লেখ করেন। লাইভলি নিজেও এক বার্তায় নিজেকে 'খারাপ বন্ধু' বলে দায় স্বীকার করেন এবং সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করেন।
মামলার বর্তমান অবস্থা
আইনি লড়াই দীর্ঘ হওয়ার কারণে তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও ফাটল ধরেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লাইভলির দায়ের করা যৌন হয়রানির মামলাটি ২০২৬ সালের মে মাসে শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এই মামলাটি শুধু ব্যক্তিগত বিরোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি হলিউডের ভেতরের জটিলতা ও তারকাদের প্রভাবকে তুলে ধরেছে।