• আন্তর্জাতিক
  • ‘যুদ্ধ শুরু করলে জ্বলবে পুরো অঞ্চল’: ওয়াশিংটনকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

‘যুদ্ধ শুরু করলে জ্বলবে পুরো অঞ্চল’: ওয়াশিংটনকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘যুদ্ধ শুরু করলে জ্বলবে পুরো অঞ্চল’: ওয়াশিংটনকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

মার্কিন সামরিক হুমকির মুখে কঠোর অবস্থান তেহরানের; রণতরী ও ড্রোন প্রদর্শনীর জবাবে ‘আঞ্চলিক যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যখন যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, তখন ওয়াশিংটনের প্রতি সরাসরি এবং কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের যুদ্ধ শুরু করার হঠকারিতা দেখায়, তবে সেই সংঘাত কেবল ইরানের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা একটি বৃহত্তর ‘আঞ্চলিক যুদ্ধে’ (Regional War) রূপ নেবে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় খামেনি এই মন্তব্য করেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’।

মার্কিন হুমকি ‘নতুন কিছু নয়’

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর সামরিক চাপ বৃদ্ধির যে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, তাকে ‘পুরানো কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন খামেনি। তিনি বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধের হুমকি দেওয়া বা বিমানবাহী রণতরী (Aircraft Carrier) মোতায়েন করার ঘোষণা ইরানিদের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। দশকের পর দশক ধরে তারা এ ধরনের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ (Psychological Warfare) চালিয়ে আসছে।

খামেনি কঠোর ভাষায় বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত যে তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার এটি একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা প্রায়শই দাবি করেন যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপসহ ‘সব বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে’ (All options are on the table)। কিন্তু তাদের বোঝা উচিত, ইরানি জনগণ এসব ফাঁকা হুমকিতে ভীত নয়।”

ট্রাম্পের ‘সামরিক ভঙ্গি’ ও ইরানের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে খামেনি বলেন, ট্রাম্প প্রায়শই পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর কথা বলে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ‘সামরিক ভঙ্গি’ (Military Posture) বা শক্তি প্রদর্শনকে ইরান যে পরোয়া করে না, সেটিও এদিন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বা কোনো ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট’ (Strategic Asset) মোতায়েন করে ইরানি জনগণের মনোবল ভাঙা সম্ভব নয়।

ভূ**-রাজনৈতিক সমীকরণ ও আঞ্চলিক অস্থিরতা**

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির এই ‘আঞ্চলিক যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতি একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা দিয়েছেন। অর্থাৎ, ইরান আক্রান্ত হলে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে ছড়িয়ে থাকা তেহরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে, যা পুরো বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে তুলবে।

সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর ও ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তজনা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া নীতি তেহরান ও ওয়াশিংটনকে আবারও একটি সরাসরি সংঘাতের (Direct Conflict) মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। খামেনির রবিবারের এই ভাষণ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিল।

Tags: middle east donald trump geopolitical tension tehran news world politics military threat regional war aircraft carrier ali khamenei usa iran