মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ইসলামপুর গ্রামে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযান ও প্রথম দফা জব্দ
বিজিবি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি লাতু ও নয়াগ্রাম বিওপির একটি বিশেষ টহল দল শনিবার রাত ৮টার দিকে ইসলামপুর গ্রামের হারিছ আলীর বাড়ির অদূরে ওঁৎ পেতে ছিল। রাত পৌনে ৯টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মাদকের চালান নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে বিজিবি হারিছ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯৫ বোতল ভারতীয় 'অফিসার চয়েজ' মদ জব্দ করে।
হামলা ও আত্মরক্ষা
মদ জব্দ করার পরপরই হারিছ আলীর বাড়ির লোকজন এবং পাশের ঘরের আত্মীয়স্বজনরা ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করে এবং বিজিবির ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি সদস্যরা ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আত্মরক্ষা করেন এবং নিরাপদ স্থান থেকে ওই বাড়ির দিকে নজর রাখেন।
পুনরায় অভিযান ও চূড়ান্ত উদ্ধার
বিজিবির ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে যান বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আতাউর রহমান, ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক, পুলিশ এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। পরে রাত একটার দিকে পুনরায় হারিছ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৪৮ বোতল 'অফিসার চয়েজ' মদ উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১৪৩ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে বিজিবি।
বিজিবি ও পুলিশের বক্তব্য
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রথমে ৯৫ বোতল বিদেশি মদ জব্দের পরই চোরাকারবারিরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। পরে পুনরায় অভিযান চালিয়ে আরও ৪৮ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মদ থানায় জমা দিয়ে মামলা করা হয়েছে। বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, বিজিবি বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের এবং জব্দকৃত মাদক থানায় জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।