গোপন অভিসারে কটসওল্ডসে
গত সপ্তাহান্তে কিম কার্দাশিয়ান এবং লুইস হ্যামিল্টনকে যুক্তরাজ্যের গ্রামাঞ্চলের অত্যন্ত বিলাসবহুল ও কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত রিসোর্ট কটসওল্ডসের 'এসটেল ম্যানরে' একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। জানা গেছে, সেখানেই তাঁরা গোপনে একটি রোমান্টিক ছুটি কাটিয়েছেন। বিলাসবহুল এই অবকাশ যাপন কেন্দ্রে তাঁরা স্পা সেশন উপভোগ করেন এবং নিজেদের কক্ষেই নৈশভোজের ব্যবস্থা করেন।
নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আসা-যাওয়া
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, কিম ব্যক্তিগত বিমানে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান, আর লুইস হ্যামিল্টন সেখানে পৌঁছান তার প্রায় এক ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে করে। কিমের লাগেজ বহনের জন্য তাঁর গাড়ির সঙ্গে একটি আলাদা গাড়িও রাখা হয়েছিল, যা স্বল্প সময়ের এই ভ্রমণের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ও আভিজাত্যের ইঙ্গিত দেয়। এসটেল ম্যানরে পৌঁছানোর পর কিমকে দু'জন নিরাপত্তারক্ষী দিয়ে ঘিরে অতি গোপনে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁরা দরজায় অবস্থান নিয়ে কিম ও হ্যামিল্টনের ব্যক্তিগত মুহূর্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
পরদিন বেলা ১১টার দিকে তাঁরা রিসোর্ট ছাড়েন। হ্যামিল্টন সামনের গেট দিয়ে বের হলেও কিমকে পাশের একটি গোপন পথ দিয়ে বের করে আনা হয়। একটি ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডকে দেওয়া তথ্যে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কিমকে চিনতে কারও ভুল হয়নি, কারণ তাঁর সঙ্গে ছিল প্রায় আটটি বড় স্যুটকেস, যেগুলোর পাশে তাঁর নাম খোদাই করা ছিল। এরপর কিম ও হ্যামিল্টন নিজেদের দেহরক্ষীদের সঙ্গে একই গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন।
কেনি ওয়েস্টের সঙ্গে হ্যামিল্টনের বন্ধুত্ব
কিম ও লুইস হ্যামিল্টনের সম্পর্ক ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তাঁদের পরিচয় বহুদিনের। উল্লেখ্য, হ্যামিল্টন ছিলেন কিমের সাবেক স্বামী কেনি ওয়েস্টের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ২০১৪ সালে জিকিউ অ্যাওয়ার্ডসে কিম ও কেনি - তখন তাঁরা দাম্পত্য সম্পর্কে ছিলেন - হ্যামিল্টন এবং তাঁর তৎকালীন সঙ্গী, পুশিক্যাট ডলসের গায়িকা নিকোল শেরজিঙ্গারের সঙ্গে একসঙ্গে পোজ দেন। সেখান থেকেই কেনি ও হ্যামিল্টনের বন্ধুত্ব আরও নিবিড় হয়।
এমনকি কেনির পরিবারের সঙ্গে ইস্টার উদ্যাপনেও একাধিকবার হ্যামিল্টনকে দেখা গেছে। কেনির স্পষ্টভাষিত স্বভাবের প্রশংসা করে একসময় হ্যামিল্টন বলেছিলেন, কেনি খুবই খোলামেলা এবং তাঁর এই বৈশিষ্ট্য তাঁকে মুগ্ধ করে। তবে নিজে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সব বিষয়ে এতটা প্রকাশ্য হতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
কিমের নতুন সম্পর্কের শর্ত
২০২১ সালে কেনি ওয়েস্টের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরও কিমের সঙ্গে হ্যামিল্টনের বন্ধুত্ব বজায় ছিল। ওই বছর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ইনোভেটর অ্যাওয়ার্ডসে দুজন একসঙ্গে পুরস্কার হাতে ছবি তোলেন। সেই ছবি শেয়ার করে হ্যামিল্টন লেখেন, এত অসাধারণ প্রতিভাবান মানুষদের মধ্যে স্বীকৃতি পাওয়া তাঁর জন্য বড় সম্মানের।
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত জীবনে লুইস হ্যামিল্টন ২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নিকোল শেরজিঙ্গারের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। এরপর গায়িকা রিটা ওরার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। বিচ্ছেদের পর কিম কার্দাশিয়ানের কিছু স্বল্পমেয়াদি সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গেলেও তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ না করা পর্যন্ত গুরুতর সম্পর্কে জড়াতে চান না। ২০২৪ সালে নিজের ‘ম্যানিফেস্টেশন লিস্ট’-এ তিনি ভবিষ্যৎ সঙ্গীর গুণাবলি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন—ভালো নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, শান্ত স্বভাব, নির্ভরযোগ্যতা এবং দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা। (তথ্যসূত্র: টিএমজেড)