• দেশজুড়ে
  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের সাঁড়াশি অভিযান: মাদক পাচারের সময় ভারতের অভ্যন্তরে আটক ২ বাংলাদেশি

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের সাঁড়াশি অভিযান: মাদক পাচারের সময় ভারতের অভ্যন্তরে আটক ২ বাংলাদেশি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের সাঁড়াশি অভিযান: মাদক পাচারের সময় ভারতের অভ্যন্তরে আটক ২ বাংলাদেশি

জীবননগর সীমান্তের জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে ওপারে মাদক আনতে গিয়ে বিএসএফের হাতে ধরা পড়ল দুই যুবক; অভিযুক্তদের ইতিমধ্যেই হস্তান্তর করা হয়েছে ভারতীয় পুলিশের কাছে।

সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে কড়াকড়ির মধ্যেই চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) হাতে আটক হয়েছেন দুই বাংলাদেশি যুবক। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে জীবননগর উপজেলার মাধবখালী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে ‘হেন্তের বিল’ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা পেশাদার মাদক কারবারি এবং তারা নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন বলে জানা গেছে।

উত্তপ্ত সীমান্ত: বিএসএফের হাতে নাজেহাল পাচারকারীরা সীমান্তবর্তী সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, শনিবার ভোররাতে জীবননগর উপজেলার মাধবখালী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মাটিয়ারি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। এসময় দুই যুবককে সন্দেহজনকভাবে জিরো পয়েন্ট (Zero Point) অতিক্রম করে ভারতের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিএসএফ সদস্যরা ধাওয়া করে তাদের আটক করে। তল্লাশিকালে তাদের গতিবিধি ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করে মাদক পাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পায় বিএসএফ।

আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও অপরাধের ধরন আটক হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন—জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ফকিরপাড়ার সন্তোর ছেলে রকো হোসেন (৩০) এবং একই গ্রামের মসজিদপাড়ার খোদারবক্সের ছেলে রাশিদুল দুলি (৩৩)।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রকো ও দুলি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত মাদক কারবারের (Drug Trafficking) সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তারা প্রায়ই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কাঁটাতারের বাধা পেরিয়ে ওপার থেকে মাদকের চালান নিয়ে আসতেন। তবে এবারের অভিযানে বিএসএফের নজরদারি এড়াতে ব্যর্থ হন তারা।

বিজিবির বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়া ঘটনাটি নিয়ে মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল আলম সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, “প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, আটককৃত দুই যুবক বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে অন্তত ৫০ গজ ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন। মূলত মাদক আনার উদ্দেশ্যেই এই অনুপ্রবেশ (Infiltration) ঘটেছিল বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তারা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে যে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সে দেশের আইনে মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তারা ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।”

সীমান্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি মাদক ও চোরাচালান বন্ধে সীমান্তে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের বিচরণ নিয়ন্ত্রণে এবং পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য কমাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। জীবননগর সীমান্তের এই ঘটনাটি স্থানীয় অপরাধী চক্রের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

Tags: crime news india bangladesh drug trafficking border security chuadanga news bsf detention jibannagar border bgb battalion narcotics zero point