জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যখন সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানানো হচ্ছে, ঠিক তখনই ঝিনাইদহে ভোটগ্রহণের আগের রাতে এক নজিরবিহীন অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোলিং এজেন্টের (Polling Agent) আগাম স্বাক্ষর করা ২৩টি রেজাল্ট শিট (Result Sheet) উদ্ধার করেছে প্রশাসন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ ভোটাররা।
আকস্মিক অভিযান ও জালিয়াতি ফাঁস
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনাটি ঘটে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিত হন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (Executive Magistrate) সেলিম রেজা এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার (Assistant Returning Officer) রিজওয়ানা নাহিদ। তারা কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিজাইডিং অফিসারের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টের আগাম সই করা সেই ফলাফল বিবরণী বা রেজাল্ট শিটগুলো জব্দ করেন।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থান: ছিঁড়ে ফেলা হলো বিতর্কিত নথি
ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে জব্দকৃত ২৩টি রেজাল্ট শিট ছিঁড়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং সেগুলো অকেজো ঘোষণা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষ হওয়ার আগে কোনোভাবেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করার নিয়ম নেই। এখানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একজন এজেন্ট আগেভাগেই ২৩টি শিটে স্বাক্ষর করে রেখেছিলেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নির্বাচনী শিষ্টাচার বহির্ভূত।”
প্রিজাইডিং অফিসারকে বিশেষ নির্দেশনা
উক্ত কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার (Presiding Officer) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জেসমিন আরা। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কড়া সতর্কতা জারি করেছেন। জব্দকৃত শিটগুলো নষ্ট করার পর পুনরায় সম্পূর্ণ নতুন রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রটিতে যেন কোনোভাবেই কারচুপি বা ম্যানিপুলেশন (Manipulation) না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারির আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
নির্বাচনী উত্তাপ ও জনমনে শঙ্কা
ভোটের আগের রাতে পোলিং এজেন্টের এমন ‘অ্যাডভান্সড সিগনেচার’ বা আগাম স্বাক্ষরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অন্যান্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত ভোট জালিয়াতির (Election Fraud) প্রচেষ্টা হতে পারত। তবে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের পবিত্রতা রক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম রুখতে স্ট্রাইকিং ফোর্স (Striking Force) ও ম্যাজিস্ট্রেটরা রাতভর টহল দিচ্ছেন।