ক্রিকেট বিশ্বের অনিশ্চয়তা আর রোমাঞ্চের সবটুকু মিশে ছিল ইডেন গার্ডেন্সের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে। নেপালের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩০ রানের হার—সব মিলিয়ে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। সুপার এইটের সমীকরণে টিকে থাকতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না হ্যারি ব্রুকদের সামনে। সেই মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে ৫ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের জোরালোভাবে ফিরিয়ে আনল ইংলিশরা।
আদিল রশিদের ঘূর্ণিজাল ও স্কটিশদের সংগ্রহ টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা স্কটল্যান্ডের শুরুটা মন্দ ছিল না। তবে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষ হওয়ার দুই বল আগেই ১৫২ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। স্কটিশদের হয়ে একাই লড়াই চালিয়েছেন অধিনায়ক রিচি বেরিংটন। তবে মাত্র ১ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে তাকে; ৩২ বলে ৪৯ রান করে তিনি যখন আউট হন, তখন দলের বড় সংগ্রহের আশাও ফিকে হয়ে আসে। এছাড়া মাইকেল জোনস (৩৩), টম ব্রুস (২৪) ও ডেভিডসন (২০) কার্যকরী ভূমিকা রাখলেও বড় পার্টনারশিপ গড়তে ব্যর্থ হন। ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ স্পিনার আদিল রশিদ ৩৬ রান খরচায় তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন জফরা আর্চার ও লিয়াম ডওসন, যারা প্রত্যেকেই শিকার করেন ২টি করে উইকেট।
শুরুতেই বিপর্যয়, তারপর ব্যান্টন-বেথেল ম্যাজিক ১৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপাকে পড়ে ইংল্যান্ড। স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৩ রান উঠতেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন দুই ওপেনার ফিলিপ সল্ট (২) ও অধিনায়ক জস বাটলার (৩)। হ্যারি ব্রুকও এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে ব্যর্থ হন। দ্রুত টপ অর্ডার ধসে পড়ার পর হাল ধরেন তরুণ তুর্কি জ্যাকব বেথেল ও টম ব্যান্টন। এই দুই ব্যাটারের ৬৬ রানের দুর্দান্ত জুটি ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। বেথেল ২৮ বলে ৩২ রান করে অলিভার ডেভিডসনের শিকার হলেও উইকেটের অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন ব্যান্টন।
ম্যাচ উইনার ব্যান্টন ও পয়েন্ট টেবিলের হিসাব ৪১ বলে ৬৩ রানের এক অনবদ্য এবং হার না মানা ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন টম ব্যান্টন। তার এই ইনিংসে ছিল ৪টি দর্শনীয় চার ও ৩টি বিশাল ছক্কা। যোগ্য স্ট্রোক-মেকিং এবং চাপের মুখে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের জন্য তাকে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত করা হয়। তাকে সঙ্গ দিতে স্যাম কুরান ২৮ রান ও উইল জ্যাকস ১৬ রানের ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংস খেলেন। স্কটিশ বোলারদের মধ্যে মার্ক ওয়াট বাদে বাকি সবাই একটি করে উইকেট নিলেও ইংল্যান্ডের জয়রথ থামাতে পারেননি।
সুপার এইটের সমীকরণ এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটের দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এল ইংল্যান্ড। বর্তমানে সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে এগিয়ে থেকে শীর্ষে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (যদিও তারা খেলেছে মাত্র ২ ম্যাচ)। অন্যদিকে স্কটল্যান্ড ও ইতালি ২ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। ইংল্যান্ডের এই জয় কেবল পয়েন্ট টেবিলেই প্রভাব ফেলেনি, বরং টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোর উত্তেজনাও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।