বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আগামী সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)। এদিন দেশের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন এবং একই দিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার ‘Swearing-in Ceremony’ বা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (Cabinet Division) সূত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শপথের প্রস্তুতি ও সংসদীয় কার্যক্রম তফসিল অনুযায়ী, সোমবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner)। সংসদ ভবনের নির্দিষ্ট কক্ষে এই অনুষ্ঠানের জন্য ইতিমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়। নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরণ করে নিতে এবং শপথ গ্রহণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো দ্রুততম সময়ে শেষ করতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এটি হবে নতুন সরকারের সংসদীয় কার্যক্রম শুরুর প্রথম ও প্রধান ধাপ।
বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার অভিষেক সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার বিকেলের দিকে রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে বঙ্গভবনে সমবেত হবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহ্যবাহী দরবার হলে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিশিষ্টজনদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বঙ্গভবন প্রাঙ্গণে ইতিমধ্যে ‘Security Protocol’ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নতুন মুখের চমক নির্বাচনে বিএনপি জোটের বিশাল জয়ের পর থেকেই জনমনে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—কারা থাকছেন এই নতুন মন্ত্রিসভায়? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিতব্য এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিকদের পাশাপাশি এবার উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক ‘New Faces’ বা তরুণ মেধাবীদের স্থান হতে পারে। তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে একটি গতিশীল সরকার উপহার দেওয়াই নতুন নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পররাষ্ট্র, অর্থ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পোর্টফোলিওগুলোতে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে সচিবালয় থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত সর্বত্রই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রাজনৈতিক উত্তরণ ও জনগণের প্রত্যাশা একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার পর ক্ষমতার এই পালাবদল বা ‘Political Transition’ দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে আসা এই সরকার আগামী দিনগুলোতে কী ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এবং দেশ গঠনে কী ভূমিকা রাখে, তা দেখতে মুখিয়ে আছে সাধারণ মানুষ।
সোমবারের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কেবল ব্যক্তিবর্গের পরিবর্তন নয়, বরং দেশের শাসনব্যবস্থায় নতুন কোনো নীতিমালার প্রতিফলন ঘটে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।