বলিউড অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য কালজয়ী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘দেবদাস’ ছবির চন্দ্রমুখী চরিত্রটি তাঁর হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে এক চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করেছেন তিনি।
চন্দ্রমুখী ও মীরা বাইয়ের তুলনা মাধুরী দীক্ষিত মনে করেন, চন্দ্রমুখী চরিত্রটির গভীরে এক ধরনের আধ্যাত্মিকতা ছিল। তিনি বলেন, “চন্দ্রমুখীর প্রেমের গল্প এবং এমন একজনের প্রতি তাঁর ভক্তি—যিনি প্রতিদান দিতে অক্ষম, তা আমাকে মীরা বাইয়ের নিঃস্বার্থ আবেগের কথাই মনে করিয়ে দেয়।” তাঁর মতে, দেবদাসের প্রতি চন্দ্রমুখীর এই নিঃশর্ত এবং একতরফা ভালোবাসা অনেকটা কৃষ্ণের প্রতি মীরা বাইয়ের সমর্পণের মতো। এই আধ্যাত্মিক সাদৃশ্যের কারণেই চরিত্রটি সাধারণের চেয়ে আলাদা হয়ে উঠেছে।
পরিচালক বনশালির প্রশংসা সঞ্জয় লীলা বনশালির কাজের ধরন নিয়ে বরাবরই মুগ্ধ মাধুরী। তিনি জানান, বনশালির সেটে প্রতিটি দৃশ্য যেন একেকটি কবিতা। অভিনেত্রীর ভাষায়, “বনশালিজির সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি। কেবল নাচের ছন্দ নয়, দৃশ্য নির্মাণের প্রতিটি ধাপে তাঁর যে শৈল্পিক ছোঁয়া থাকে, তা অতুলনীয়।”
কড়া শাসনের আড়ালে মানবিক রূপ সাধারণত সঞ্জয় লীলা বনশালিকে কড়া ধাঁচের পরিচালক হিসেবে ধরা হলেও মাধুরীর অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তিনি জানান, শুটিং চলাকালীন বনশালি সবার খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে বিশেষ নজর রাখতেন। সেটের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়া এবং তাঁদের প্রতি যত্নশীল হওয়া মাধুরীকে মুগ্ধ করেছিল। তিনি বলেন, “বনশালিজি অসামান্য পরিচালক শুধু নন, তিনি একজন অসাধারণ মানুষও বটে।”
মাধুরীর এই নতুন ব্যাখ্যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন তর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাঁর এই দর্শনের প্রশংসা করছেন, আবার কেউ কেউ দেবদাসের প্রেক্ষাপটে এই তুলনাকে বিশ্লেষণ করছেন নতুন আঙ্গিকে।