ইউক্রেনীয় রাজনীতিতে বড় ধাক্কা: সীমান্তে ধরা পড়লেন সাবেক মন্ত্রী
ইউক্রেনের রাজনীতিতে নতুন করে বইছে দুর্নীতির ঝড়। দুর্নীতির দায়ে পদত্যাগ করার পর দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার হয়েছেন দেশটির সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কো (Herman Halushchenko)। ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী ব্যুরো (NABU) রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে কড়া নজরদারির মুখে পড়ে পালানোর শেষ চেষ্টাটিও ব্যর্থ হয় এই প্রভাবশালী রাজনীতিকের।
‘মিডাস’ মামলা ও ১০০ মিলিয়ন ডলারের কেলেঙ্কারি
নাবু (NABU) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অতিক্রম করার সময় ‘মিডাস’ (Midas) নামক একটি মেগা-দুর্নীতি মামলার অংশ হিসেবে সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। যদিও বিবৃতিতে সরাসরি তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে গত বছর ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের (Energy Sector) নেতৃত্বে থাকা গালুশচেঙ্কোর পদত্যাগের সময়কাল ও মামলার প্রেক্ষাপট তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান রয়েছে।
জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ মহলের যোগসাজশ ও অর্থপাচার
তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৫ সালে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে একটি বিশাল অর্থপাচারের (Money Laundering) চক্র উন্মোচন করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্রটি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। ইউক্রেনের বিশেষ দুর্নীতিবিরোধী প্রসিকিউটর দপ্তর (SAPO) জানিয়েছে, প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের এই বিশাল কেলেঙ্কারির মূল নীল নকশা তৈরি করেছিলেন ব্যবসায়ী তাইমুর মিনডিচ।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গালুশচেঙ্কো এই অবৈধ অর্থ প্রবাহের ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মিনডিচকে সরাসরি সহায়তা করতেন। এর বিনিময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘এনার্জোট্যাম’-এর সঙ্গে কাজ করা ঠিকাদারদের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। অভিযোগ উঠেছে, বিল পরিশোধে বিলম্ব এড়ানো বা চুক্তি বহাল রাখার শর্তে ঠিকাদারদের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ (Kickbacks) দিতে বাধ্য করা হতো।
ইউক্রেন প্রশাসনে টালমাটাল পরিস্থিতি
এই জ্বালানি কেলেঙ্কারির জেরে ইউক্রেনীয় প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল ও পদত্যাগের হিড়িক পড়েছিল। গালুশচেঙ্কোর পাশাপাশি আগের দুই জ্বালানিমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফও দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হন। যদিও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আনা এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করা হয়েছে, তবুও তদন্ত সংস্থাগুলোর কাছে তাদের অপরাধের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলে জানা গেছে। এই গ্রেপ্তারকে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ফেরানোর লড়াইয়ে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।