• দেশজুড়ে
  • রান্নাঘরে ঢুকছে মরণঘাতী বিষ: শেরপুরে কাঠের গুঁড়া ও পঁচা মরিচে মশলা তৈরির কারখানা সিলগালা, মিল মালিককে জরিমানা

রান্নাঘরে ঢুকছে মরণঘাতী বিষ: শেরপুরে কাঠের গুঁড়া ও পঁচা মরিচে মশলা তৈরির কারখানা সিলগালা, মিল মালিককে জরিমানা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
রান্নাঘরে ঢুকছে মরণঘাতী বিষ: শেরপুরে কাঠের গুঁড়া ও পঁচা মরিচে মশলা তৈরির কারখানা সিলগালা, মিল মালিককে জরিমানা

জনস্বাস্থ্যকে তুচ্ছ করে মুনাফার পাহাড় গড়ার নেশা; জেলা প্রশাসনের ঝটিকা অভিযানে ধরা পড়ল ‘বিষাক্ত’ মশলা তৈরির চাঞ্চল্যকর কারসাজি।

খাবারের স্বাদ বাড়াতে যে মশলা আমরা ব্যবহার করি, সেই মশলাই এখন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। শেরপুর সদর উপজেলায় এক ভয়াবহ জালিয়াত চক্রের সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন, যারা কাঠের গুঁড়া, পঁচা মরিচ এবং মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর রাসায়নিক রঙ মিশিয়ে তৈরি করছিল গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় মশলা। এই অপরাধে সংশ্লিষ্ট মিল মালিক ও তার সহযোগীকে বিপুল পরিমাণ অর্থদণ্ড প্রদানের পাশাপাশি কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গোপন সংবাদে ‘অপারেশন ডোবারচর’ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে শেরপুর সদর উপজেলার কামারের চর ইউনিয়নের ডোবারচর বাজারে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয় গিয়াস উদ্দিনের ধানের খোলার পাশে গড়ে ওঠা একটি সন্দেহভাজন মশলার কারখানায় হানা দেয় শেরপুর সদর থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে Adulteration বা ভেজাল মশলা তৈরির কাজ চলছিল বলে প্রশাসনের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল।

জব্দ করা হলো বিষাক্ত উপকরণের পাহাড় অভিযান চলাকালে কারখানার ভেতরে ঢুকে চক্ষুচড়কগাছ কর্মকর্তাদের। সেখানে দেখা যায়, রান্নার জন্য হলুদ ও মরিচের গুঁড়া তৈরি হচ্ছে এক অভাবনীয় ‘রেসিপি’তে। মশলার ওজন বাড়াতে অবাধে মেশানো হচ্ছিল এক বস্তা ধানের গুঁড়া ও মিহি কাঠের গুঁড়া। উজ্জ্বল রঙ আনতে ব্যবহার করা হচ্ছিল টেক্সটাইল বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিষাক্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল রঙ। এছাড়া ছিল দুই বস্তা পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত মরিচ, যা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। অভিযানে প্রায় ৮০ কেজি তৈরি করা ভেজাল মশলা এবং বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়।

আসামিদের পরিচয় ও আইনি দণ্ড এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে হাতে-নাতে আটক করা হয় মিল মালিক বাসেদ মিয়া (৪৫) এবং তার সহযোগী মিস্টার আলীকে (৩৫)। আটক বাসেদ মিয়া ডোবারচর দক্ষিণ পাড়ার মৃত আবদুল খালেকের ছেলে এবং মিস্টার আলী সন্যাসীরচর গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর ছেলে।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শেরপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক মজনুন ইশতি। অপরাধ স্বীকার করায় Consumer Rights এবং বিশুদ্ধ খাদ্য আইনে মিল মালিক বাসেদ মিয়াকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার সহযোগী মিস্টার আলীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

জনসম্মুখে ধ্বংস হলো ‘বিষ’ অভিযান শেষে জব্দকৃত বিষাক্ত রঙ, কাঠের গুঁড়া এবং ভেজাল মশলাগুলো স্থানীয় জনসাধারণের সামনে ধ্বংস করা হয়। শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, "মুনাফালোভী চক্রটি জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছিল। আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের কাজ শনাক্ত করি এবং উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করি।"

স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞের উদ্বেগ খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশলায় মেশানো এসব ইন্ডাস্ট্রিয়াল রঙ এবং কাঠের গুঁড়া নিয়মিত সেবনে কিডনি বিকল হওয়া, লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ভয়াবহ। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও, নিয়মিত নজরদারি (Food Safety Inspection) বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

শেরপুর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তাদের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে এবং বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।

Tags: public health legal action mobile court sherpur news consumer rights food adulteration spice fraud toxic spices